Odisha Train Accident: ওড়িশায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা! সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করেছিলেন যাঁরা
Odisha Train Accident: শুক্রবার সন্ধে সাতটার আশপাশে। ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা বাহানাগা বাজার স্টেশন। শুরুতেই যাঁরা সাহায্য করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক স্কুল ছাত্র। যে আহতদের, তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করেছিল। এছাড়াও রয়েছেন এক ওষুধের দোকানের মালিক। যিনি বিনামূল্যে টিটেনাস ইনজেকশন দিয়েছিলেন।
এছাড়াও ছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তাঁরা সিমেন্টের খালি বস্তা হাতে সেলাই করে আহতদের সরানোর কাজে হাত লাগিয়েছিলেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী যিনি রাতভর প্রায় ৫০ টি শিশুর যত্ন নেন। এছাড়াও একজন মুদি দোকানের মালিক, যিনি বিনামূল্যে খাবার ও জল সরবরাহ করেছিলেন।

সেদিন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী নীলাম্বর বেহেরা দাঁড়িয়েছিলেন দুর্ঘটনা বিধ্বস্তদের পাশে। তিনি জানিয়েছেন, লোকেরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল, আর তাঁরাও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি ও তাঁর পরিবার ১৪-১৫ বছর বয়সী অন্তত ৫০ টি শিশুকে খাবার ও প্রাথমিক আশ্রয় দিয়েছিল। পরের দিন সকালে তাঁদের সরকারি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নীলাম্বর বেহেরার ছেলে চন্দনের দুই বন্ধু ট্রেনে ছিল। ফোনে সেই বন্ধুরা উদ্ধারের আবেদন করে। সেই মতো এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে উদ্ধারে নেমেছিলেন চন্দন। এছাড়াও প্রতিবেশীদেই অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা আহতদের অনেকের বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলিয়েও দিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে থাকা এক ওষুধের দোকানের মালিক বছর ২৫-এর যুবক সৌভাগ্য সারঙ্গী সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন, ফাঁকা দুটি টিটেনাস ইনজেকশনের খালি বাক্স। প্রতিটি বাক্সে ৫০০ টি করে ডোজ ছিল। তিনি প্রত্যেক আহতকে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

সৌভাগ্য জানিয়েছেন, বিকট শব্দে ছুটে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে গ্রামের লোকের আহতদের তাঁর দোকানের পাশে এনে বসাতে থাকে। তিনিও সেখানে টিটেনাস ও ব্যথা উপশমের ওষুধ দিতে শুরু করেন। এছাড়াও তিনি যতটা পেরেছেন ব্যান্ডেজ এবং অন্য ওষুধও সরবরাহ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। সব কাজ শেষ করে ভোর ৪ টেয় তিনি বাড়ি যান।
এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সৌভাগ্য জানিয়েছেন, সেদিন তাঁর প্রায় আচহাজার টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তিনি কীভাবে চাইবেন। আর মানুষ হলে কেউ সেই টাকা চাইতে পারে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এলাকায় মুদির দোকান চালানো এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি বিনামূল্যে পানীয় জল এবং শুকনো খাবার দিয়েছিলেন। প্রথমের দিকে দোকান বন্ধ করে দিতে হলেও, পরে গভীর রাত পর্যন্ত দোকন খোলা রেখেছিলেন তিনি।
স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন, সেদিনের বীভৎসতার কথা। কেউ লোহার রড দিয়ে জানালা খুলে যাত্রীদের উদ্ধারব করেছেন তো কেউ আটকে পড়া যাত্রীদের জল দিয়েছেন। আবার অনেকে জানিয়েছেন, উদ্ধারের সময় যাত্রীদের মৃত্যু হওয়ার কথা।












Click it and Unblock the Notifications