Odisha Train Accident: অভিশপ্ত রাত কাটিয়ে নতুনের শুরু, বালেশ্বরে গড়াল প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চাকা
Odisha Train Accident: বালেশ্বরে চাকা গড়াল ট্রেনের। ৫১ ঘণ্টার যুদ্ধ কালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ এবং মেরামতির পর গতকাল রাতেই মালগাড়ির চাকা গড়িয়েছিল। সোমবার সকালে চাকা গড়াল প্যাসেঞ্জার ট্রেনের। দুর্ঘটনার দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু।
গতকাল রাতে চাকা মালগাড়ির চাকা গড়ানোর সময় হাতজোড় করে প্রার্থনা করেছেন সকলে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রার্থনা করে ট্রেন চলাচলের সূচনা করেন। নতুন করে যাত্রার সূচনা করলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বুধবারের মধ্যে বালেশ্বর রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করবেন। অবশেষে সেই লক্ষ্য পূরণ করলেন তিনি।

শুক্রবার রাতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। এক লহমায় বদলে গিয়েছিল বালাসোরের চেহারাটা। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল ট্রেনের কামরাগুলি। খেলনা ট্রেনের মত চতুর্দিকে ছিটকে পড়েছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেসের কামরা গুলি। তিনটে ট্রেনের সংঘর্ষ। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ট্রেন দুর্ঘটনাগুলির মধ্যে একটা এই বালেশ্বর ট্রেন দুর্ঘটনা।

একই লাইনে চলে এসেছিল দুটি ট্রেন। মালগাড়ির পিছনে গিয়ে ধাক্কা মারে ট্রেনটি। দ্রুতগতিতে আসা করমণ্ডল এক্সপ্রেসের কামরা ছিটকে গিয়ে পড়ে পাশের লাইনে। সেখানে আবার দ্রুত গতিতে আসছিল যশোবন্তপুর এক্সপ্রেস। তাতে ধাক্কা লেগে সেই গাড়িরও কয়েকটা কামরা উল্টে পড়ে।
শুক্রবার রাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বালেশ্বরের বাহানাগা স্টেশন। রেললাইনের উপরে ছড়িয়ে ছিটিেয় রয়েছে যাত্রীদের আসবাব। কোথাও ব্যাগ তো কোথাও স্যুটকেস , কোথাও আবার টিফিন বক্স, জলের বোতল ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে যে ধকল গিয়েছে তার চিহ্ন স্পষ্ট।
গত তিনদিন ধরে দিনরাত এক করে কাজ করেছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা। রেল-বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং বায়ুসেনা যৌথ উদ্যোগে কাজ করেছে বালেশ্বরে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেই কাজ পরিচালকনা করেছেন। কখনও রেললাইনের উপর বসে জিরিয়ে নিয়েছেন। সেখানে রেলের আধিকারীকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বুধবারের মধ্যে বালেশ্বর লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী ৈবষ্ণব। গতকাল রাতেই প্রথম মালগাড়ির চাকা গড়াল বালেশ্বর স্টেশনে। হাতজোড় করে প্রার্থনা করলেন সকলে। সেই অভিশপ্ত দিন যেন ফিরে না আসে সেই ঘটনা না ঘটে তার প্রার্থনাই করেছিলেন তিনি। তারপরে সকালে চাকা গড়াল প্যাসেঞ্জার ট্রেনের। এই প্রথম প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলল বালেশ্বর লাইনে। দুর্ঘটনার পুরনাবৃত্তি যেন না ঘটে সেই প্রার্থনাই জানিয়েছেন সকলে।
ট্রেন চালু হলেও দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি বার্তা দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তিনি বলেছেন যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিকে বিরোধীরা রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁরা দাবি জানিয়েছেন শুধুমাত্র রেলের গাফিলতিতেই এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল।












Click it and Unblock the Notifications