মমতার আবেদনের পরেই সুদীপ-সাক্ষাতে জল্পনা নবীনকে নিয়ে, কোন পথে জোট-সমীকরণ
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত বিজেপি-বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। তাঁর আর্জি, বিজেপির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়ার। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত বিজেপি-বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। তাঁর আর্জি, বিজেপির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়ার। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে। বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার জন্য তিনি জোটবদ্ধ হতে বলছেন, নাকি স্বার্থে আঘাত লাগতে তিনি পাশে চাইছেন সবাইকে। এরই মধ্যে দিল্লিতে নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা তৈরি হল।

মমতা চিঠি লিখে দেশের বিজেপি বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে আবেদন রাখলেও, তার কী সাড়া পেয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। তবে যেদিন মমতা চিঠি লিখলেন, সেদিনই সংসদের সেন্ট্রাল হলে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল সাংসদের সাক্ষাৎ জাতীয় রাজনীতিতে অন্য মাত্রা এনে দিল।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক বরাবরই নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন বিজেপি বিরোধিতায়। বরং তিনি খানিকটা বিজেপির দিকেই ঝুঁকে থেকেছেন বরাবর। এখনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁকে নিয়ে জল্পনা চলছে। এই অবস্থায় নবীন-সুদীপ সাক্ষাৎ অন্য সমীকরণের আভাস দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
দুই নেতার তরফেই জানানো হয়েছে, এদিন বিরোধী জোট সংক্রান্ত কোনও কথা হয়নি সুদীপ ও নবীনের। নবীন পট্টনায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুশল সংবাদ নিয়েছেন। আর নবী পট্টনায়ককে অভিনন্দন জানিয়েছেন সবথেকে বেশিদিন ধরে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার পালন করার জন্য। এখনও তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ওড়িশায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিন তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ কথা বার্তায় মমতার চিঠি প্রসঙ্গ ওঠেনি একথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এদিনই চিঠি লিখেছেন, তখন সেই আলাপচারিতায় উভয়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কিঞ্চিত হলেও আলোচনা হয়েছে। সামনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যাবেন। তখন তাঁদের মধ্যে কোনও বৈঠক হয় কি না সেটা দেখার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৪-এর জোটের সলতে পাকানোর কাজটা জারিই রেখেছেন। একাধিক বিজেপি বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে মমতার। অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে শুরু করে কে সি রাও, এম কে স্ট্যালিন, জগনমোহন রেড্ডি-রা রয়েছেন। রয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে, হেমন্ত সোরেনরাও। সে অর্থে নবীন পট্টনায়ক ছিলেন না এই তালিকায়। এবার দেখার তিনিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হন কি না।
এদিন নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে তৃণমূল দৌত্য শুরু করল কি না, তা বোঝা যাবে অচিরেই। আপাতত সেন্ট্রাল হলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীন পট্টনায়কের সাক্ষাতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের আভাসর রইল। এখন দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন কোন কতোন মুখ্যমন্ত্রীর সাড়া মেলে।












Click it and Unblock the Notifications