আর মাত্র কয়েক বছরের অপেক্ষা, দেশজুড়ে ছেলেদের টপকে যাবে মেয়েরাই
২০১৫-১৬ সালের হিসেব অনুযায়ী ভারতের মোট ছাত্রছাত্রীদের ৪৮ শতাংশই ছাত্র,শীঘ্রই সিংহভাগই ছাত্রীদের দখলে চলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে এক অনন্য নজির গড়ার পথে ভারত। এমনিতেই ভারতের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সারা বিশ্বে বৃহত্তম। কিন্তু সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতের এই পড়ুয়াসংখ্যার প্রায় অর্ধেক শীঘ্রই ছাত্রীদের দখলে চলে যাবে। ২০১৫-১৬ সালের হিসেব অনুযায়ী ভারতের মোট ছাত্রছাত্রীদের ৪৮ শতাংশই ছাত্র। শীঘ্রই সিংহভাগই ছাত্রীদের দখলে চলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ভর্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৫০-৫১ সালে যেখানে ছাত্রীদের হার ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ, ৪০ বছর পর ১৯৯০-৯১ সালে তা বেড়ে হয় ৩৯ শতাংশ। পরের দশ বছরে তা আরও বেড়ে ৪২ শতাংশে পৌছয়। এরপরও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে ছাত্রীদের সংখ্যা। সমীক্ষা বলছে, ভর্তি হওয়ার মেয়েরা পড়াশোনার প্রতি বেশি মনোযোগী এবং কোর্স সম্পূর্ণ করছেন। ফলে ছেলেদের থেকে মেয়েরাই বেশি ডিগ্রি অর্জন করছে।
এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ভারতকে অন্যান্য উন্নত দেশগুলির সারিতে নিয়ে এসেছে। চিন ও ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেশগুলিতে যেখানে উচ্চশিক্ষায় ৫৪ শতাংশই মেয়েরা রয়েছে। আমেরিকায় ৫৫ শতাংশ ছাত্রী রয়েছে। সেইসঙ্গে এই দেশগুলিতে মহিলাদের সামাজিক স্থানও যথেষ্ট ভাল। বিভিন্ন চাকরিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ, রাজনীতি, প্রশাসন ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও মহিরা অনেক বেশি অংশগ্রহণ করে।
তবে ভারতে ছাত্রীদের হারে উল্লেখযোগ্যবৃদ্ধি হলেও চাকরি ও সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে কিন্তু মহিলারা পিছিয়েই রয়েছে। চাকরির ক্ষেত্রে মাত্র ২৭ শতাংশ, রাজনীতিতে প্রায় ২০ শতাংশ ও ৫০০টি বড় সংস্থার মধ্যে মাত্র ১৭টির সিইও পদে কোনও মহিলা রয়েছেন। এই পরিস্থিতিই বুঝিয়ে দিচ্ছে কীভাবে ভারতে শিক্ষিত মহিলাদের মেধার অপচয় হচ্ছে। তবে এই ছবিও শীঘ্রই বদলাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রক। এদেশেও মহিলারা যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে পশ্চিমী দেশগুলি ছুঁয়ে ফেলতে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications