Ram Mandir: মোদীর আস্থাভাজন আমলা থেকে রাম মন্দির নির্মাণের নেপথ্যের সেনানী, জানেন কে এই নৃপেন্দ্র মিশ্র?
বিজেপি এবং আরএসএসের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল সোমবার। ঐতিহ্যের অযোধ্যায় প্রতিষ্ঠিত হল রাম মন্দির। যা নিয়ে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক এবং আইনি লড়াই চালিয়েছে দেশের গেরুয়া শিবির। গত কয়েক সপ্তাহ ধৱেই অযোধ্যা জুড়ে উৎসবের মেজাজ। আর সোমবার যেন সেই উৎসবেরই নবমী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৭ হাজার অতিথি উপস্থিত হয়েছেন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে।
রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মুখ যদি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে নেপথ্যের কারিগর কিন্তু অন্য একজন। তিনি নৃপেন্দ্র মিশ্র। রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম পুরধা তিনিই। তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কিন্তু কে এই নৃপেন্দ্র মিশ্র? রাম মন্দির নির্মাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত আস্থা ভাজন।

১৯৬৭-র উত্তরপ্রদেশ ব্যাচের আইএএস মিশ্র দিল্লিতে আমলা বর্গের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী নৃপেন্দ্র মিশ্র ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সময় থেকেই প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির পদে আসীন ছিলেন। একাধিক বার প্রধানমন্ত্রী তাঁর কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেছেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রী টুইটারে জানান, লোকসভা ভোটের পরেই নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন নৃপেন্দ্র মিশ্র।
কিন্তু তারপরও কাজ চালিয়ে গিয়েছেন আরও ২ বছর। অবশেষে ২০২১ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তবে অবসর গ্রহণের পর নিজের বিশ্বস্ত সেনাপতিকে দূরে যেতে দেননি মোদী। রাম মন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় বেরোনোর পরই রাম নির্মাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করা হয় প্রাক্তন এই আমলাকে।
নৃপেন্দ্র মিশ্র পড়াশুনা করেছেন হাবার্ডের জন এফ কেনেডি স্কুল থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে মাস্টার্স করেছেন। এছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রসায়ন নিয়ে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে জীবন শুরু করেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে আলমা হওয়ার সবরকমের উপাদান ছিল। তাই ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন। ১৯৬৭ সালের ব্যাচের আইএএস তিনি।
উত্তরপ্রদেশ সরকারে দীর্ঘদিন কাজ করার পর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের আমলা হন। দীর্ঘ কর্মজীবনে ট্রাইয়ের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
নব নির্মিত রাম মন্দিরটি দাঁড়িয়ে রয়েছে ২.৭ একর জমির উপর। মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে উত্তর ভারতের নাগারা শৈলীতে। মন্দিরটির দৈর্ঘ্য় ৩৮০ ফুট (পূর্ব-পশ্চিম দিক), প্রস্থ ২৫০ ফুট ও উচ্চতা ১৬১ ফুট। রাম মন্দিরে মোট ৩৯২টি স্তম্ভ ও ৪৪টি দরজা রয়েছে। পাঁচটি মণ্ডপ হল নৃত্য মণ্ডপ, রং মণ্ডপ, সভা মণ্ডপ, প্রার্থনা মণ্ডপ এবং কীর্তন মণ্ডপ। রামমন্দিরের ৩টি তলের প্রতিটির উচ্চতা ২০ ফুট করে। মন্দিরের প্রথম তলে মোট স্তম্ভ রয়েছে ১৬০টি।
তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি। নৃপেন্দ্র মিশ্রের কথায়, '২৩ জানুয়ারি থেকে নতুন উদ্যমে, নুতন প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ শুরু করব যাতে পুরো মন্দিরটি তৈরি হয়ে যায় ২০২৪ সালের মধ্যে। মন্দির চত্বরে আরও সাতটি মন্দির তৈরি করা হবে। প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের পরে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু হবে।'












Click it and Unblock the Notifications