গোরখপুর, ২৩ জানুয়ারি : লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদী হাওয়া আরও চাঙ্গা করতে চায় বিজেপি। তাই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে জনসভা করলেন মোদী। সেখানে তিনি যা যা বললেন,
এই শীতেও দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এসে জনসভায় যোগ দিয়েছে। হাওয়া যে একটা নির্দিষ্ট দিকে বইছে তা বোঝাই যাচ্ছে।
এই চিত্রটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে খুব শীঘ্রই দেশ কংগ্রেসমুক্ত হবে।
উত্তরপ্রদেশের যুবদের আমি সম্মান জানাতে চাই। ১৫ ডিসেম্বর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মৃত্যু বার্যিকিতে দেশজুড়ে 'ইউনিটি রান' হয়েছিল।
উত্তরপ্রদেশের কোণা কোণা থেকে মানুষ এই দৌড়ে অংশ নিয়েছিল। এবং তা বিশ্ব রেকর্ড হয়েছিল।
একই কারণে দেশের ৫০ লক্ষ মানুষ দৌড়ে অংশগ্রহণ করেছিল।ভারতে সবচেয়ে বড় মূর্তিটি তৈরি করা হবে। যা স্ট্যাচু অফ লিবার্টির দ্বিগুন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা অব্যবহৃত দ্রব্য থেকে লোহা দান করছেন।
আমি যেখানেই তাকাচ্ছি, মানুষের ভিড় দেখতে পারছি। "জনতা জনার্দন কে দর্শ ঈশ্বর দর্শন কে বরাবর হোতা হ্যায়
আমাদের দেশে ৫ রাজ্যে নির্বাচন হয়ে গেল। বিজেপি এর মধ্যে ৪টি আসনেই জয়ী হয়েছে।
২০১৪ লোকসভা নির্বাচন ফলের ট্রেলার তো বিধানসভা নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে।
মানুষ দলিত আদিবাসীদের গুরুত্ব দিতে চায় না। তারা শুধু ভোটব্যাঙ্কের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
যে ৪ রাজ্যে বিজেপি জিতেছে সেখানে বিশাল ব্যবধানেই জয়ী হয়েছে।
কংগ্রেস বলেছিল বিজেপি তফশিলি জাতি ও উপজাতির মধ্যে জিততে পারবে না বিজেপি।
রাজস্থানে ৩৪টি আসন তফশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ছিল। কংগ্রেস কটা জিতেছে-১টাও না।
ছত্তিশগড়ে তফশিলি জাতিদের জন্য ১০টা আসন সংরক্ষিত ছিল কংগ্রেস সেখানে ১টাই আসন পেয়েছে।
তফশিলি জাতি ও উপজাতি কংগ্রেসর উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে।
দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় এখন বিজেপির উপর আস্থা রাখছে।
কংগ্রেস সবসময় গরীব মানুষদের কথা বলছে। ভোট কাছে আসলে তবেই ওদের গরীব মানুষদের কথা মনে পড়ে।
এত বছর ধরে কংগ্রেস দারিদ্র মানুষ সম্পর্কে এত কথা বলছে কিন্তু গরীব মানুষদের পরিস্থিতিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি।
গত ৬০ বছরে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
আমার এর উত্তর জানা আছে। আসলে কংগ্রেস চায় না গরীব মানুষরা দারিদ্র থেকে বেরিয়ে আসুক।
একজন চাওয়ালাকে সহ্য করার মতো আত্মবিশ্বাসও তাদের নেই।
কংগ্রেস যেভাবে আমাকে 'চাওয়ালা' বলে ডাকে তাতেই গরীব মানুষদের প্রতি কংগ্রেসর দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়।
উত্তরপ্রদেশের অনেক সম্পদ রয়েছে। ১০ বছরে উত্তরপ্রদেশ অনেক দূর এগোতে পারত।
এখন তো আমি যেখানেই যাই বাপ-বেটায় আমায় ধাওয়া করে।
আজ ওরা বলছে মোদী উত্তরপ্রদেশকে গুজরাত বানাতে পারবে না।
এক দশক যদি আমরা কাজ করি তাহলে উত্তরপ্রদেশকে গুজরাতেরও আগে নিয়ে যাব।
গুজরাত মানে ২৪x৭ বিদ্যুৎ প্রতিটি গ্রামে। আপনি ঠিকই বলেছেন নেতাজি (মুলায়ম) আপনি পারবেন না। এর জন্য ৫৬ ইঞ্চির ছাতি দরকার। আপনারা (সমাজবাদী পার্টি) সমর্থন পেয়েছেন। কিন্তু কী করেছেন। না নিরাপত্তা দিতে পেরেছেন। না চাকরি।
রাজনীতির জন্য রাজ্যটাকে শেষ করে দিলেন।
বাইরে থেকে দুধ আনতে হয় কেন আমাদের। আমুল ডেয়ারি আমরা এখানেই কেন তৈরি করতে পারি না।
কংগ্রেস উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারে না। কৃষিকাজে আমাদের প্রাধান্য দিতে হবে।
কৃষকরা সার পাওয়ার জন্য কষ্ট করছেন। সারের কালোবাজারি হচ্ছে। সেকান থেকে তাদের কিনতে হচ্ছে। জানালেন মোদী।
ভাল প্রশাসন ছাড়া আমরা পরিবর্তন আনতে পারব না। আমাদের দেশ গরীব নয়। আমাদেরও টাকা রয়েছে। আমরাও ধনি দেশ হতে পারি। আর তার সিদ্ধান্ত ২০১৪-র লোকসভা ভোটেই আমাদের নিতে হবে।
২০১৪-র লোকসভা নির্বাচন দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
আপনারা ৬০ বছর শাসকদের দিয়েছেন। ৬০ মাস সেবকদের দিন। আমি আপনাদের সুখ শান্তির জীবন দেব।