দু'ঘণ্টা নয়, এ বার ট্রেনে দিল্লি থেকে আগ্রা পৌঁছন ৯০ মিনিটে

জাপানে যদি বুলেট ট্রেন চলে, ভারতে কেন চলবে না, এটাই হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিলক্ষণ জানেন, ভারতে এখনও সেই পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই তাঁর নির্দেশে এখন রেল এই বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন, এখন মানুষের জীবন কর্মব্যস্ত। ট্রেনে চেপে বসলে যদি সময়ের অপচয় হয়, সেটা কাজের কথা নয়। তাই ট্রেনযাত্রার সময় কমাতে হবে। এ জন্য বুলেট ট্রেন চালাতে হবে। যে যে রুটে এখনই বুলেট ট্রেন চালানো সম্ভব নয়, সেখানে দূরপাল্লার ট্রেনের গড় গতি ৭০-৮০ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১২০ কিলোমিটার করতে হবে। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, দিল্লি-আগ্রা, দিল্লি-চণ্ডীগড়, দিল্লি-কানপুর, মুম্বই-পুণে ইত্যাদি রুটগুলিতে প্রথম বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারই অঙ্গ হিসাবে বৃহস্পতিবার দিল্লি-আগ্রা রুটে চালানো হল সেমি-বুলেট ট্রেন।
সেমি-বুলেট ট্রেনের পরীক্ষামূলক দৌড়, নভেম্বর থেকে পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ
দিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দূরত্ব হল আগ্রার। এখন শতাব্দী এক্সপ্রেসে যেতে দু'ঘণ্টা সময় লাগে। এ দিন যে সেমি-বুলেট ট্রেন চালানো হল, তার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। ৯০ মিনিট সময় লেগেছে যেতে। চালক আর গার্ড ছাড়া রেলের কয়েকজন কর্তা ছিলেন এর আরোহী। আরও কয়েকবার পরীক্ষামূলক যাত্রার পর এতে ওঠার ছাড়পত্র দেওয়া হবে সাধারণ যাত্রীদের। মোটামুটি নভেম্বর থেকে এই পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির ডিআরএম অনুরাগ সচন বলেছেন, "এতদিন দেশের দ্রুতগামী ট্রেন ছিল ভোপাল শতাব্দী এক্সপ্রেস। ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগ ঘণ্টায়। এই ট্রেনটি তাকে অতিক্রম করল।" জাপানের বুলেট ট্রেন বা ফ্রান্সের টিজিভি ট্রেনের কাছে এই গতিবেগ কিছুই নয়। কিন্তু ভারতের কাছে অবশ্যই সাফল্য। জাতীয় সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যে তাই একে সেমি-বুলেট ট্রেনের তকমা দিয়েছে। জাপানের শিনকানসেন এক্সপ্রেস থেকে প্রেরণা পেয়েছে ভারতীয় রেল। এই ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। এটি বুলেট ট্রেন। দিল্লি-আগ্রা ট্রেনটির গতিবেগ এর অর্ধেক হওয়ায় একে সেমি-বুলেট ট্রেন বলা হচ্ছে। ট্রেনের কামরাগুলি পুরোপুরি বাতানুকূল। জোড়া হয়েছে অতিরিক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন।












Click it and Unblock the Notifications