Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

৭ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল, শুধু প্রথম স্থান নয়, অনুপ্রেরণাও! জানুন আইএএস টপার শক্তি দুবের কাহিনী

মঙ্গলবার সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস (ইউপিএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এই পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের শক্তি দুবে। ১,০০৯ জন মেধাবী প্রার্থী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের কৃতী সন্তান শক্তি দুবে সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান (AIR 1) অধিকার করে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন।

শক্তি দুবে, ২০২৪ সালের ইউপিএসসি সিএসই পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে আইএএস টপার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের এই তরুণ প্রতিভা কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং একাগ্রতার মূর্ত প্রতীক। এই অভূতপূর্ব সাফল্য ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় (IAS) তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূচনা করেছে।

Shakti Dubey

শক্তি দুবের ইউপিএসসি সিএসই (UPSC CSE)-এর শীর্ষে আরোহণের কাহিনি কেবল একটি সাফল্যের গাথা নয়, এটি নিরলস প্রচেষ্টা, সুচিন্তিত কৌশল এবং জনসেবার প্রতি একনিষ্ঠ অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের এক বিস্তৃত শিক্ষাগত পটভূমি, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ ৭ বছরের কঠোর প্রস্তুতির পর আজকের এই সাফল্য তাঁর।

প্রয়াগরাজ, যা একসময় এলাহাবাদ নামে পরিচিত ছিল, গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর পবিত্র সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। এই ঐতিহাসিক শহর শুধু তার আধ্যাত্মিক গুরুত্বের জন্যই নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবেও খ্যাত। শক্তি দুবে এই ঐতিহ্যপূর্ণ শহরেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা এবং মা দুজনেই শৈশব থেকেই শক্তির মধ্যে শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ জুগিয়েছিলেন। তাঁরা শুধু একাডেমিক পড়াশোনাতেই উৎসাহিত করেননি, বরং সততা, নিয়মানুবর্তিতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মতো মূল্যবোধও তাঁর মধ্যে সঞ্চারিত করেছিলেন।

এই শহর যেখানে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাকে সর্বদা সম্মানের চোখে দেখা হয়, সেখানে তিনি এমন এক পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। যদিও তাঁর বিদ্যালয়ের নাম এখনও জনসাধারণের সামনে আসেনি। প্রয়াগরাজের প্রতিযোগিতামূলক এবং শিক্ষাবিদ্যা-ভিত্তিক বাতাবরণের প্রভাব তাঁর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সুস্পষ্ট।

শক্তি দুবের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় স্কুলেই। যেখানে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনার প্রতি তাঁর স্বাভাবিক আগ্রহ এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা তাঁকে সর্বদা নতুন কিছু শিখতে উৎসাহিত করত। এই জ্ঞানদীপ্ত পরিবেশই শক্তিকে তাঁর শিক্ষাগত উৎকর্ষের ভিত্তি স্থাপন করতে সাহায্য করেছিল, যা পরবর্তীতে UPSC-এর মতো কঠিন পরীক্ষার বৈতরণী পার করতে সহায়ক প্রমাণিত হয়।

বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে শক্তি দুবে ২০১৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর, উচ্চশিক্ষার অন্বেষণে শক্তি বারাণসীর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে (BHU) যান। সেখান থেকে জৈব রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
বারাণসীর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়তে অধ্যয়নকালে শাসন ও জনসেবার প্রতি শক্তির আগ্রহ আরও দৃঢ় হয়, যা তাঁকে তাঁর কর্মজীবনের লক্ষ্য সিভিল সার্ভিসের দিকে স্থির করতে অনুপ্রাণিত করে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর, শক্তি কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। যদিও তাঁর শিক্ষকতার কর্মজীবনের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে, এই অভিজ্ঞতা জ্ঞান বিতরণ এবং শিক্ষাদানের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগকেই তুলে ধরে। পাশাপাশি যোগাযোগ, নেতৃত্ব এবং পরামর্শদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা তৈরিতেও সহায়ক ছিল, যা একজন দক্ষ সিভিল কর্মচারীর জন্য অপরিহার্য।

এরপর ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর শিক্ষা সমাপ্ত করার পর, শক্তি দুবে তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক নেন। তিনি দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক এবং কঠিন পরীক্ষাগুলির মধ্যে অন্যতম, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, কারণ এরজন্য প্রয়োজন অসীম ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের।

পরীক্ষায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ছিল তাঁর ঐচ্ছিক বিষয়। বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞানের এই সমন্বয় তাঁর প্রস্তুতিকে একটি সুষম এবং গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। তিনি যেমন বিষয়গুলির তাত্ত্বিক দিকগুলি মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করেন, তেমনই সমসাময়িক ঘটনাবলী এবং দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের উপরও নিয়মিত নজর রাখতেন।

শক্তি দুবের ইউপিএসসির প্রস্তুতি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চলেছিল। যা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাস ও অধ্যবসায়কেই প্রমাণ করে। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। যথা প্রিলিমিনারি, মেইন এবং ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি ১৬ই জুন, ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০শে সেপ্টেম্বর থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত মেইন পরীক্ষা নেওয়া হয়।

ব্যক্তিত্ব পরীক্ষার পর্বটি ২০২৫ সালের ৭ই জানুয়ারী থেকে ১৭ই এপ্রিল পর্যন্ত চলেছিল। প্রতিটি স্তরে শক্তি তাঁর মেধা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছেন। এই দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রায় শক্তি বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন। দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অধ্যয়ন, বিস্তারিত নোট তৈরি করা এবং সেগুলির নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করা, এই রুটিন বজায় রাখা সহজ ছিল না। অনেক সময় ক্লান্তি ও হতাশা গ্রাস করতে চেয়েছিল।

কিন্তু শক্তি তাঁর স্থির লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মানুবর্তিতা এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি সব বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শক্তি দুবের এই অসাধারণ সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, এটি সেই সমস্ত স্বপ্ন দেখা প্রার্থীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যারা কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জন করতে বদ্ধপরিকর।

Take a Poll

প্রয়াগরাজের এই কৃতি সন্তান আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক নতুন অনুপ্রেরণা। যাঁর জীবনকথা আগামী দিনে বহু লড়াই করা পড়ুয়াদের শক্তি জোগাবে। শক্তি দুবের সাফল্যের পেছনে তাঁর পরিবারের সমর্থন ছিল অপরিহার্য। তাঁর বাবা-মা সর্বদা তাঁকে উৎসাহিত করেছেন এবং কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন। শক্তি দুবের জীবনকাহিনী থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনও কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+