গত বছরের মতো বৃষ্টিতে ঘাটতি, নাকি স্বাভাবিক বর্ষা? দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু নিয়ে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস

সোমবার বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট পূর্বাভাসে জানিয়েছিল এবার সারা দেশে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যে দেশের আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাসে বলেছে এবার জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘকালীন গড়ের ভিত্তিতে বলা হয়েছে এবার ৯৬ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে বিজ্ঞানমন্ত্রকের সচিব জানিয়েছেন, ২০২৩-এ ৮৩.৬ সেমি বৃষ্টিপাতের আশা করা হচ্ছে। যা কিনা স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে দক্ষিণ ভারতের বেশিরভাগ জায়গার পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পশ্চিম ও মধ্য ভারতের কিছু অংশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।

weather

যুক্তি হিসেবে আইএমডি বলেছে, ইউরেশিয়ার মতো কেশ কিছু এলাকায় কম পরিমাণ তুষারের আচ্ছাদন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর পক্ষে অনুকূল। তবে এল নিনোর প্রভাব বর্ষার দ্বিতীয় ভাগে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি। ইন্ডিয়ান ওশান ডিওপোল বর্ষার পক্ষে ইতিবাচক বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

সাধারণভাবে কোনও বছরের বর্ষা স্বাভাবিকের ওপরে, স্বাভাবিক কিংবা স্বাভাবিকের নিচে কিনা তা নির্ধারণ করতে আবহাওয়া দফতর দীর্ঘ সময়ের গত ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে তা ৩০ কিংবা ৫০ বছরও হয়ে থাকে। সেখানেই বিভিন্ন বছরে কম বা বেশি বৃষ্টিপাতের কারণগুলিকেও দেখা হয়।

weather

জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাসের হিসেবে গত ৫০ বছরের গড় বৃষ্টিপাত ৮৮ সেমির আশপাশে। সাধারণভাবে দেশের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বলতে এই বৃষ্টিপাতের ৯৬ শতাংশ থেকে ১০৪ শতাংশকেও বুঝিয়ে থাকে। সোমবার বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট বলেছিল ৯৪ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা অর্থাৎ স্বাভাবিকের থেকে কম।

স্কাইমেটের তরফে বলা হয়েছিল এল নিনো ছাড়া অন্য কারণেও বৃষ্টিতে বাধা তৈরি করতে পারে। যে কারণে বর্ষা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা। তারা বলেছে, বৃষ্টি ৯৪ শতাংশ হবে, পাশাপাশি বর্ষার দ্বিতীয়ভাবে এল নিনো শক্তিশালী হবে। এছাড়াও ভারত মহাসাগরের ডাইপোলও এবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর পক্ষে খুব একটা ইতিবাচক নয় বলেও জানিয়েছিল তারা।

weather

আইএমডির পূর্বাভাসে ভারতের কৃষিক্ষেত্র কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। কেননা এই বর্ষার দেশের ৬০ শতাংশ জনসংখ্যার জীবিকার উৎস। অর্থনীতিতে এর পরিমাণ ১৮ শতাংশ। দেশের প্রা. অর্ধেক এলাকায় এখনও সেচের বন্দোবস্ত নেই। যে কারণে ধান, ভুটো, বেত, তুলো এবং সয়াবিনের মতো ফসলের জন্য জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির ওপরে নির্ভর করতে হয়।

সেক্ষেত্রে বর্ষা যদি কম হয়, তাহলে অর্থনীতির ওপরে তা প্রভাব পড়তে বাধ্য। অর্থনীতিতে ঝুঁকির সম্ভাব্য কারণ হয়েও দাঁড়ায় এই বর্ষা। তবে আপাতত সেই সম্ভাবনা নেই। বর্ষা শুরু হলেও তার ফল বোঝা যাবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+