কোনও শব্দ নিষিদ্ধ হয়নি! সদস্যদের মত প্রকাশে স্বাধীনতা রয়েছে, 'অসংসদীয়' শব্দ বিতর্কে বললেন অধ্যক্ষ ওম বিড়লা
সারাদিনই অসংসদীয় (unparliamentary) শব্দের নতুন অভিধান নিয়ে তোলপাড় দেশের রাজনীতি। তৃণমূল (Trinamool congress) সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি বলবেনই, সাসপেন্ড করে দেখাক। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী টুই
সারাদিনই অসংসদীয় (unparliamentary) শব্দের নতুন অভিধান নিয়ে তোলপাড় দেশের রাজনীতি। তৃণমূল (Trinamool congress) সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি বলবেনই, সাসপেন্ড করে দেখাক। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী টুইটে আক্রমণ শানিয়েছেন।
সপ্তাহের শুরুতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু। তার আগে এই বিতর্ক যাতে হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য হস্তক্ষেপ করলেন অধ্যক্ষ (Speaker ওম বিড়লা (Om Birla)। তিনি বললেন সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশে কোনও বাধা নেই। সংসদের জন্য কোনও শব্দ নিষিদ্ধ করা হয়নি বলেও জানিয়ে দেন তিনি।

অধ্যক্ষের সাফাই
এদিন অধ্যক্ষ ওম বিড়লা জানিয়েছেন, ১৯৫৯ সাল থেকেই নিয়মিত শব্দের অপসারণ করা হয়। তবে কোনও শব্দ নিষিদ্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। সদস্যরা তাঁদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেছেন, আদে সংসদীয় শব্দের বই প্রকাশ করা হত। কাগজের অপচয়ের কারণে সেটা এখন ইন্টারনেটে রাখা হয়েছে। অধ্যক্ষ বলেছেন,যেসব শব্দ অপসারণ করা হয়েছে তার একটি সংকলন জারি করা হয়েছে লোকসভার সচিবালয়ের তরফে। তিনি বলেছেন, সংসদের কিছু সদস্যের আপত্তির কথা মাথায় রেখে কিছু শব্দের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ বলেছেন, যেসব শব্দ অপসারণ করা হয়েছে সেগুলি সংসদে বিরোধী দলের পাশাপাশি ক্ষমতায় থাকা দল ব্যবহার করে। শুধুমাত্র বিরোধীদের দ্বারা ব্যবহৃত শব্দ অপসারণ করার অভিযোগ ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন করে যেসব শব্দ অসংসদীয়
এদিন লোকসভার সচিবালয়ের তরফে জারি করা বুকলেটে বলা হয় জুমলাজীবি, বাল বুদ্ধি, কোভিড স্প্রেডার, স্মুপগেট এবং সাধারণভাবে ব্যবহৃত শব্দ অ্যাশেমড, অ্যাবিউসড, বিট্রেড, কোরাপ্ট, ড্রামা, হিমোক্রেসি, ইনকম্পিটেন্টকে অসংসদীয় অ্যাখ্যা দেওয়া হয়। সংসদের দুই সভায় আলোচনার সময় যদি নৈরাজ্যবাদী, শকুনি, স্বৈরাচারী, তানাশাহ, তানাশাহী, বিনাশ পুরুষ, খালিস্তানি, খুন সে খেতি ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা বাদ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এছাড়াও আরও যেসব শব্দ এই তালিকায় রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে গিরগিটি, গুণ্ডা, কুমিরের কান্না, অসম্মান, অসত্য, অহংকার, দুর্নীতি, কালা দিন, কালা বাজার।

বিরোধীদের প্রতিবাদ
লোকসভার সচিবালয়ের নতুন অসংসদীয় শব্দের তালিকা প্রকাশের পরে তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধী সাংসদরা। তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধীরা যেসব শব্দ ব্যবহার করে, সেগুলিকেই অসংসদীয় বলা হয়েছে। ডেরেক ও' ব্রায়েন বলেছেন তিনি ওইসব শব্দ ব্যবহার করবেনই। তার জন্য যদি সাসপেন্ড
করে করবে। রাহুল গান্ধী বলেন, এই শব্দ তালিকা নতুন ভারতের জন্য নতুন অভিধান। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেছেন, আলোচনা এবং বিতর্কে যেসব শব্দ প্রধানমন্ত্রীর সরকার পরিচালনার বর্ণনা দেয়, সেগুলিকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শেষকথা বলবেন অধ্যক্ষ ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
বিভিন্ন সময়ে সংসদে বিভিন্ন শব্দ ও অভিব্যক্তিকে অসংসদীয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যা সংসদের সচিবালয়ে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে কোন শব্দ সংসদীয় আর কোনটা অসংসদীয় এবং তা বাদ দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যসভার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানএবং লোকসভার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ।












Click it and Unblock the Notifications