১০০ দিনের কাজ বন্ধ নয়, টাকা ছাড়তেই হবে, কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ফের চাপ বাড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের খাতে কেন্দ্রের টাকা মঞ্জুর করতেই হবে।
গত ১ অগাস্ট থেকে ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করেই মোদী সরকার পৌঁছেছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু এদিন বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার দুই বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কেন্দ্রের আবেদনের কোনো ভিত্তি নেই। আদালতের মন্তব্য, "আপনারা মামলা প্রত্যাহার করবেন, না আমরা খারিজ করব?" এই মন্তব্যের পরই মাত্র আধ মিনিটের মধ্যে খারিজ হয়ে যায় কেন্দ্রের আর্জি।

ফলে হাই কোর্টের নির্দেশই কার্যকর থাকল, রাজ্যে ফের শুরু হবে ১০০ দিনের কাজ, পাশাপাশি কেন্দ্রকে দিতে হবে আটকে রাখা টাকা। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এটি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জয়ের দিন। সাধারণ শ্রমজীবীদের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করেছিল কেন্দ্র। আদালত প্রমাণ করে দিল, ন্যায়বিচার এখনও আছে।"
অন্যদিকে, মামলাকারী পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতির আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "এই রায় গরিব মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো দেখাল। কেন্দ্র অন্যায়ভাবে প্রকল্পের টাকা বন্ধ রেখেছিল, এখন সেই পথ খুলে গেল।"
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে এরাজ্যে ১০০ দিনের কাজের মজুরি বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের দাবি, প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, প্রকৃত শ্রমিকদের বাদ দিয়ে অন্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। এই যুক্তিতেই প্রকল্পের বরাদ্দ আটকে রাখে কেন্দ্র।
স্বাভাবিকভাবেই এই রায়ের পর তৃণমূল শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,"যাঁরা ভেবেছিলেন বাংলাকে হেনস্থা করা যাবে, তাঁদের আজ গণতন্ত্রের রায় চপেটাঘাত করল। মানুষ যেমন ভোটে প্রত্যাখ্যান করেছে, আদালতও একই বার্তা দিল।"
অভিষেকের নেতৃত্বে আগেই দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছিল রাজ্যের প্রতিনিধি দল, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের টাকা না দেওয়ার প্রতিবাদে। সেই সময় রাজ্যপালের দপ্তরের কাছেও স্মারকলিপি জমা দেন তিনি।
এর আগে ১৮ জুন কলকাতা হাই কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানম স্পষ্ট বলেছিলেন, "দুর্নীতি রুখতে কেন্দ্র শর্ত দিতে পারে, কিন্তু প্রকল্প বন্ধ রাখা যাবে না।"
সেই হাই কোর্টের নির্দেশই সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল।
অর্থাৎ, চার বছরের অপেক্ষার অবসানে ফের রাজ্যে শুরু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজ।












Click it and Unblock the Notifications