কারণ বা সমাধান চিহ্নিত করতে তাড়াহুড়ো নেই, বায়ু মান পর্যবেক্ষক সংস্থাকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
নিম্নমানের বায়ু ও ক্রমবর্ধমান দূষণ নিয়ে এবার সরাসরি কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি এনসিআর অঞ্চলের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশনের (সিএকিউএম) ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। আদালতের মতে, পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট আন্তরিক বা দ্রুত নয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দূষণের আসল কারণ চিহ্নিত না করে বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের রূপরেখা তৈরি না করে শুধু দায় এড়ানো চলবে না। আদালতের নির্দেশ, পরিবেশ ও বায়ুদূষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে অবিলম্বে একটি যৌথ বৈঠক ডেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। সেই রিপোর্ট শুধু আদালতেই নয়, সাধারণ মানুষের জানার জন্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

শুনানিতে আদালত লক্ষ্য করে, দূষণের জন্য দায় নির্ধারণে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হচ্ছে। কখনও ভারী যানবাহন, কখনও আবার চাষিদের ওপর দোষ চাপিয়ে দায় সেরে ফেলা হচ্ছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, যদি বাস ও ট্রাক বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করবে কীভাবে? আবার কোনও পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ছাড়াই কৃষকদেরই দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করাও যুক্তিযুক্ত নয়।
কোভিড অতিমারির সময়ের উদাহরণ টেনে আদালত জানায়, তখন খড় পোড়ানো চললেও দিল্লির আকাশ ছিল তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। এই তথ্যই প্রমাণ করে যে বায়ুদূষণের কারণ একমাত্রিক নয়, বরং বহুস্তরীয় ও জটিল। ফলে অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশ্লেষণের ওপর দাঁড়িয়েই নীতি নির্ধারণ হওয়া উচিত।
প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এতদিন ধরে নানা মত, গবেষণা ও নিবন্ধ প্রকাশিত হলেও দূষণের প্রকৃত উৎস নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। ভারী যানবাহন, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, আবাসন প্রকল্প সবকিছুরই প্রভাব রয়েছে। প্রশ্ন হল, কোনটি কতটা দায়ী ও তার মোকাবিলা কীভাবে করা হবে।
আদালতের মতে, একটি স্বতন্ত্র ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ দলকে দিয়ে দূষণের উৎসগুলি চিহ্নিত করতে হবে ও কোন খাত থেকে সর্বাধিক দূষণ হচ্ছে তার আনুমানিক হিসাব জনসমক্ষে আনতে হবে। এতে সাধারণ মানুষও বুঝতে পারবে সমস্যার মূল কোথায়। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, তারা নিজেকে 'সর্বজ্ঞ বিশেষজ্ঞ' মনে করে না, তবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আলোচনার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য মঞ্চ তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।












Click it and Unblock the Notifications