নেই মানবতা, হাসপাতালগুলি এখন রিয়্যাল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রি, মত সুপ্রিম কোর্টের
হাসপাতালগুলি এখন রিয়্যাল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রি
আবাসিক স্থানে ২–৩ টি ঘরের ফ্ল্যাটেই চলছে নার্সিং হোম, সেখানে না মানা হচ্ছে দমকল বিধি আর লঙ্ঘন হচ্ছে বহুতলের নিরাপত্তাও। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ভর্ৎসনা করেই জানায় যে হাসপাতালগুলি ক্রমে বড় বড় রিয়্যাল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে কেভিড–১৯ ভয়াবহতার মুখে দাঁড়িয়েও মানবতা পরিষেবার বদলে তা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। শীর্ষ আদালত এ ধরনের নার্সিং হোমগুলিকে দমকল ও অন্যান্য সুরক্ষা বিধির দিকে নজর দিতে বলেছে নতুবা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে সেগুলি।

বহুতলের আইন লঙ্ঘনকে সংশোধন করার জন্য আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালগুলিকে ডেডলাইন দেওয়ার জন্য গুজরাত সরকারকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত। অথচ গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই আদেশ দেয় শীর্ষ আদালত এবং তারপরও মানুষ অনবরত আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেন, 'মানুষের মারা যাওয়া দেখার পরও মানবতা পরিষেবার বদলে হাসপাতালগুলি বড় বড় রিয়্যাল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর আমাদের আদেশ থাকা সত্ত্বেও আপনারা (গুজরাত সরকার) ডেডলাইন বাড়িয়েছেন, যা ঠিক করেননি।’
শীর্ষ আদালতের বেঞ্চে থাকা বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও এম আর শাহ জানান, সঙ্কটের সময় রোগীদের সেবা সরবরাহের বদলে হাসপাতালগুলি এখন অর্থ শোষণের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। বিচারপতিদের মতে, এই দুঃখজনক পরিস্থিতির সময় হাসপাতাল বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রিতে রিমথ হতে পারে এবং ফ্ল্যাটের ২–৩টি ঘর নিয়ে চলা আবাসিক স্থানে এই ধরনের নার্সিং হোমের কাজ বন্ধ করা উচিত। বিচারপতিরা বলেন, 'সবচেয়ে ভালো এ ধরনের হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া এবং রাজ্যের উচিত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রদান করা। আমরা এ ধরনের হাসপাতাল ও নার্সিং হোমের কাজ বরদাস্ত করব না।’ এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্রের নাসিকের একটি হাসপাতালের ঘটনা উল্লেখ করেন, যেখানে নার্স ও রোগীদের মৃত্যু হয় গত বছর। গুজরাত সরকারের কাছ থেকে সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছে। কারণ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে রাজ্য সরকার ডেডলাইন বাড়াতে পারে না।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সব রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় একটি করে সমিতি গছন করার নির্দেশ দিয়েছিল, যারা মাসে কমপক্ষে একবার করে কোভিড–১৯ হাসপাতালগুলির ফায়ার অডিট করবে, কোন খামতি থাকলে তা প্রশাসনকে জানাবে ও সরকারকে রিপোর্ট করবে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য। এটাও বলা হয়, যে কোভিড–১৯ হাসপাতালগুলি ফায়ার বিভাগের নো অবজেকশন শংসাপত্র পায়নি, তারা যেন দ্রুত এনওসির জন্য আবেদন করে এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের পরই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়াও রাজ্যের প্রত্যেক কোভিড হাসপাতালে নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়। যে হাসপাতালগুলি এটা করবে না তারা আগুনের কোনও ঘটনা ঘটলে সরাসরি দায়ী থাকবে। শীর্ষ আদালত গত বছর গুজরাতের রাজকোটের একটি কোভিড হাসপাতালে আগুনের ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেছিল যেখানে ৫ জন রোগী মারা গিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications