No-confidence Motion: কলকাতার ফোন পেয়েই কি অধীরকে কোণঠাসা করল কংগ্রেস? সমবেদনা জানিয়ে খোঁচা মোদীর
No-confidence Motion: সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে জবাবি ভাষণ দিয়ে গিয়ে একযোগে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টিএমসির নাম অবশ্য নেননি মোদী। অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রতি সমবেদনাও জানালেন!
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে রয়েছে বিরোধীদের প্রতি শ্লেষ। শুরু থেকেই পয়ন্ট ধরে ধরে তিনি এমনভাবে বলছেন তাতে নিজেও হাসছেন, হাসি চাপতে পারছেন না বিরোধী দলের নেতারাও।

মোদী বলেন, আগে যতবার সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব এসেছে তখন সংসদের বিরোধী দলনেতা বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু অধীরবাবুর কী হাল! তাঁকে প্রথমে কথা বলারই সুযোগই দেওয়া হয়নি। তাঁর নাম বক্তাদের তালিকায় ছিল না। বিষয়টি ভালো লাগছে না বলে উল্লেখ করেছিলেন অমিত ভাই (শাহ)। জানি না, কলকাতা থেকে ফোন আসার জন্যই এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল কিনা।
এখানেই না থেমে মোদী বলেন, কংগ্রেস বারবার তাঁকে অপমান করে। অস্থায়ীরূপে ফ্লোর লিডার থেকে হঠিয়েও দেয়। তাঁকে যেভাবে কোণঠাসা করা হলো তাতে তাঁর প্রতি সমবেদনা জানাই। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে 'অধীরবাবু'র সঙ্গে সিপিআইএম কী করেছিল তা সকলেই জানেন। তারপরও এমন পরিস্থিত হয়েছে যে বাংলায় কংগ্রেসকে সিপিআইএমের সঙ্গে হাত মেলাতে হয়েছে। বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধের কথা বললেও দিল্লিতেও সকলে একজোট!

মোদী এদিন কটাক্ষ করে বলেন, বিরোধী দলের নেতারা অভিধান খুঁজে নানা অপশব্দ, অগণতান্ত্রিক শব্দ প্রয়োগ করেন। তবে তাঁরা একটা বর পেয়েছেন, যা নিয়ে খারাপ বলেন সেখানেই ভালো হয়। বিগত ২০ বছর আমাকে নিয়ে কী না বলা হয়েছে। আমার জন্য কবর খোঁড়ার কথা বলা হয়েছে। আজ আমাকে দেখুন, তাহলেই বুঝবেন তাঁদের খারাপ কথার কী ফল হয়।
তিনটি আরও উদাহরণ দিয়েছেন মোদী। বলেন, এঁরা সকলে মিলে বলেছিলেন, এই সরকারের জন্য ব্যাঙ্ক পরিষেবা ডুবে যাবে, দেশ খতম হয়ে যাবে, গরিবদের টাকা চলে যাবে। এঁরা বিদেশ থেকে বিদ্বানদের এনেও সে কথা বলিয়েছিলেন, যদি কেউ বিশ্বাস করে। নিরাশাজনক কথা, অপপ্রচার করা হয়েছিল। দেখা গেল, ব্যাঙ্কগুলির লাভ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
হ্যাল, এলআইসি নিয়েও ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলেছিল। হ্যালের মজদুরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ের বীজ বপনের চেষ্টা হয়েছিল গেটে সভা করে। সেই হ্যাল সাফল্যের শিখরে। সর্বকালীন সেরা রাজস্ব আদায় করেছে। এলআইসি নিয়েও বলা হয়েছিল গরিবের টাকা ডুবে যাচ্ছে। সে কথাও ভুল প্রমাণ হয়েছে। আসলে বিরোধীরা যেখানেই মৃত্যুর ঘোষণা করেন, সেখানেই চমক দেখা যায়।

মোদীর কথায়, বিরোধীরা গরিবদের ক্ষুধা নিয়ে চিন্তিত নয়। তাঁদের চিন্তা খালি ক্ষমতা নিয়ে। আমি বলেছি, এনডিএ টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে তিন নম্বরে আসবে। তা কীভাবে হতে পারে তা জানতে চাননি বিরোধীরা। কোনও সুপারিশও করেননি। আজ বলছি, ২০২৮ সালে যখন ফের অনাস্থা প্রস্তাব আসবে, ততদিনে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে তিনে থাকবে।
নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন রাজ্যের উদাহরণ টেনে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওডিশা-সহ বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের প্রতি রাজ্যবাসী অনাস্থা দেখিয়েছেন। বিরোধীদের অনাস্থা অনাস্থা প্রস্তাব ঈশ্বরের আশীর্বাদ। ২০১৮ সালে বলেছিলাম, অনাস্থা প্রস্তাব বিরোধীদের ফ্লোর টেস্ট। তারা নিজেদের সংখ্যাই ধরে রাখতে পারে না। ২০১৯ সালে আমাদের আসন বেড়েছে। আগামী বছর বিজেপি, এনডিএ রেকর্ড সংখ্যক আসন পাবে।
দেশের যুব-গরিবদের কল্যাণ নিয়ে বিরোধীদের চিন্তা নেই বলে দাবি মোদীর। বিরোধী দল নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহী। অনাস্থা প্রস্তাবে ফিল্ডিং সাজিয়েছিল বিরোধীরা। চার, ছক্কা আমরাই মারলাম। ওঁরা খালি নো বল করছেন। আমরা সেঞ্চুরি হাঁকালাম। সময় পেলেও তৈরি হয়ে কেন সংসদে আসেন না?












Click it and Unblock the Notifications