বিরোধী ঐক্যের পালে হাওয়া এনেছে কর্নাটক! কেজরির পরই নীতীশ খাড়গের সাক্ষাৎপ্রার্থী
কর্নাটকে কংগ্রেস বড়ো জয় পেয়েছে। তারপর থেকেই বিরোধী পালে বইছে শুরু করেছে সুমন্দ বাতাস। ২০২৪-এর ভোটের আগে বিরোধী ঐক্যে শক্তিশালী করতে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। আবার বিরোধী ঐক্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।
২৪ ঘণ্টা আগেই তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর তারপরই তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সাক্ষাৎপ্রার্থী হতে চাইছেন। তিনি শীঘ্রই দেখা করবেন কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে। আর এই বৈঠকের উদ্দেশ্য যে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলা হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও নীতীশ কুমার বৈঠকের পর একজন কংগ্রেস সভাপতির সাক্ষাৎপ্রার্থী আর অন্যজন তৃণমূল সভানেত্রীর দুয়ারে। তাই নেপথ্যে যে বিরোধী জোট গঠন, তা সুস্পষ্ট। বিরোধী জোটকে একজোট করতেই বিরোধী নেতানেত্রীরা একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ জারি রেখেছেন।
ইতিমধ্যে বিজেপি বিরোধী চার নেতার সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমোর সাক্ষাৎ হয়েছে। আর অরবিন্দ কেজরিওয়াল আমলা নিয়োগ ও বদলি নিয়ে দিল্লি প্রশাসনের হাত থেকে বিশেষ ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নয়া অর্ডিনান্স জারির পর বিরোধীদের ফের একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

কংগ্রেস সম্প্রতি কর্নাটক সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিরোধী ঐক্যের একটি ছবি তুলে ধরেছেন। যাঁদের জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের নেতৃত্ব মেনে নিতে অসুবিধা নেই বা ইউপিএ-র সমস্ত দলকে একত্রিত করে জোট-বার্তা দিয়েছেন। কংগ্রেস বিরোধী জোটের রাশ ধরে রাখতেই তৎপর বলেও জানিয়ে দিয়েছে এই ছবিতে।
কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ব্রাত্য ছিল আম আদমি পার্টি, ভারীচ রাষ্ট্র সমিতি, বিজেডি ও ওয়াইএসআর কংগ্রেসের মতো দলগুলি। তবে আমন্ত্রিত ছিলেন নীতীশ কুমার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দিলেও কেজরিওয়াল বা কেসিআরকে তেমন আমল দিতে রাজি নয়।

এই অবস্থায় কেজরিওয়াল ও কংগ্রেসের মধ্যে নীতিশ কুমরা দৌত্য স্থাপন করতে চাইছেন। চাইছেন বিরোধী জোটকে আরো সার্বিক রূপ দিতে। মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে নীতীশ কুমারের দেখা করতে চাওয়ার পিছনে তাই বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। নীতীশ কুমার এনডিএ ছাড়ার পর থেকেই বিজেপি বিরোধী জোট গড়ে তুলতে আগ্রহী।
নীতীশ বিজেপির সঙ্গে ছেড়ে বিহারের মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সবথেকে বেশি বিরোধী ঐক্যের সমর্থনে বৈঠক করেছেন। তারপর কর্নাটক নির্বাচনের পরই তাঁর পাটনায় একটি বিরোধী ঐক্যের সমাবেশ করার কথা। সেই লক্ষ্যেই তিনি তৎপর কি না, তা ক্রমশ প্রকাশ্য।












Click it and Unblock the Notifications