মমতার পরামর্শ মেনে পাটনাতেই বিরোধী-বৈঠক! মিশন ২০২৪-এর লক্ষ্যে নীতীশ
২০২৪-এ বিজেপি বিরোধী ঐক্য গড়তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে এসে বৈঠক করে গিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শ দেন, দিল্লি নয় পাটনাতেই হোক বিরোধী-বৈঠক! মমতার সেই পরামর্শ মেনে মিশন ২০২৪-এর লক্ষ্যে নীতীশ কুমার পাটনাতেই বিরোধী বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
কর্নাটক নির্বাচনের পর বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করে বৈঠকরে পরিকল্পনা করেছেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার। সেই বৈঠকে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী মহাজোট গড়ার ব্যাপারে আলোচনা হবে। আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে দেখা করার একদিন পরেই এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শনিবারই নীতীশ কুমার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের পরে পাটনায় বিরোধী নেতাদের একটি বৈঠক হতে পারে। কর্নাটক নির্বাচনের আগে তা করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না, কারণ অনেক নেতা কর্নাটকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন।
নীতীশ কুমার জানান, খুব শীঘ্রই আমরা একটি সভা করব। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলতেই আমরা আলোচনায় বসতে চাইছে। কোথায় বৈঠক হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কর্নাটকে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী নেতারা যদি পাটনায় সভা করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান, তবে পাটনাতেই সভা হবে। আর আমরা যদি পাটনায় সভা সংগঠিত করার সুযোগ পাই, তবে সেটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় হবে। এর আগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাটনায় একটি বৈঠকের আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন নীতীশকে।
নবান্নে নীতীশ ও তেজস্বীর সঙ্গে বৈঠকের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, নীতীশ কুমারের কাছে কেবল একটি অনুরোধ করেছিলাম, যে রাজ্য থেকে জয়প্রকাশ নারায়ণজির আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই বিহারে সর্বদলীয় সভা করার পরিকল্পনা করতে।
তিনি বলেন, যদি বিহারে সর্বদলীয় বৈঠক হয়, তাহলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি সেই বৈঠকে যাওয়ার ব্যাপারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়েই জানান সেই কথা। তারপর নীতীশ কুমার লখনউতে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেও একটি বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়।

এপ্রিলের শুরু থেকেই নীতীশ কুমার বিরোধী জোট গঠন করার ব্যাপারে উদ্যোগী হন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও সিপিআইয়ের ডি রাজার সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।
কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই জোটের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস, বিআরএস ও সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলির সঙ্গে কথা বলুন। এরা কেউই কংগ্রেসকে ভালোভাবে নেয় না। কংগ্রেসের সঙ্গে তারা মঞ্চ ভাগ করে নেন কি না, সেটা দেখার।












Click it and Unblock the Notifications