নীতীশ সরকার থেকে খসে পড়ল একটি পাপড়ি, সমর্থন প্রত্যাহার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর
বিহারের নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিল এক শরিক দল। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে শরিক হারা হল নীতীশ কুমারের জেডিইউ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতেনরাম মাঝির হাম নীতীশ কুমারের সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিল।
জিতেনরাম মাঝি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পরবর্তী সময়ে নিজের একটি দল করেন হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা নামে। সংক্ষেপে তার নাম হাম। হাম পার্টির পক্ষ থেকে সোমবার নীতীশ কুমার সরকারের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করার ঘোষণা করা হয়েছে।

হামের জাতীয় জাতীয় সভাপতি তথা জিতেনরাম মাঝির ছেলে সন্তোষ সুমন জানিয়েছেন, সমর্থন প্রত্যাহারের চিঠি হস্তান্তরের জন্য রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়া হয়েছে। তিনি সময় দিলেই আমরা তা রাজ্যপালের হাতে প্রত্যার্পণ করব।
সন্তোষ সুমন গত সপ্তাহে নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, জেডিইউ তাঁর দলকে এক ঘরে করে রাখছে। তার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তাই তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আভাস দিয়েছিলেন হামের পক্ষ থেকে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সেইমতোই হাম জানিয়ে দিল তারা নীতীশ কুমারের সরকারে থাকছে না। তাঁদের দলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে সহমত হয়েছেন সন্তোষ সুমনরা। সুমন বলেন, তিনি বিকল্প পন্থা খুঁজে নিতে শীঘ্রই দিল্লি যাবেন। তিনি যে বিজেপির সঙ্গে কথা বলতেই দিল্লি যাবেন তা স্পষ্ট।

জিতেন রাম মাঝির হামের ফের বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। এনডিএ থেকে শুধু আমন্ত্রণ আসার অপেক্ষা। কেননা আমন্ত্রণ এলে তিনি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক। একইসঙ্গে হাম সভাপতি সন্তোষ সুমন জানান, "আমরা তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের বিকল্পও উন্মুক্ত রাখছি।"
এইচএএম আট বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বহুবার মিত্র পরিবর্তন করেছে৷ ফলে এবারও তারা মিত্র পরিবর্তন করতে কুণ্ঠা বোঝ করবে না। সেই মর্মেই তিনি বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করবেন। নির্ধারিত বৈঠকেই চূটড়ান্ত হয়ে যাবে হামের এনডিএ-তে ফেরার বিষয়টি।

জেডিইউ ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন প্রায় ১ বছর আগে। নীতীশ কুমারের পদক্ষেপের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে চারজন বিধায়ক নিয়ে হামও গত বছর 'মহাগঠবন্ধনে' যোগ দিয়েছিল। কিন্তু এক বছর সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই জিতেনরাম মাঝির দল পাল্টি খেল।
তবে জিতেন রামের মিত্র-পরিবর্তনে সরকারে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ ২৪৩ আসনবিশিষ্ট বিহার বিধানসভায় শাসক জোটের পক্ষে ১৬০ জন বিধায়ক রয়েছেন। এই মহাজোটে জেডিইউ, আরজেডি ও কংগ্রেস ছাড়াও তিনটি বাম দল রয়েছে, যারা সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করছে।












Click it and Unblock the Notifications