কেরলে বাদুড় থেকেই সংক্রমণ, কোঝিকোড়ে নিপা অ্যান্টিবডি মিলেছে বাদুড়ের নমুনায়
কেরলে বাদুড় থেকেই সংক্রমণ নিপা ভাইরাসের
কোঝিকোড়ে জেলায় বাদুড়ের নমুনার মধ্যে নিপা ভাইরাস অ্যান্টিবডি (আইজিজি অ্যান্টিবডি) পাওয়া গিয়েছে। এই জেলার পঞ্চায়েত সংলগ্ন কোডিয়াথোর ও থামারাসরি থেকে এই নমুনা সংগ্রহ করেছিল পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভায়রোলজি (এনআইভি)। গত মাসে এখানেই নিপা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত নিশ্চিত করা হয়েছিল।

এনআইভি নমুনা সংগ্রহ
নিপা ভাইরাস প্রকোপের তদন্তের খাতিরে এনআইভি এই নমুনা সংগ্রহ করেছিল। প্রসঙ্গত, কেরলে নিপা ভাইরাসের প্রকোপ ক্রমশঃ বাড়ছে। গত মাসের গোড়ার দিকেই কোঝিকোড়ের এক বালকের মৃত্যু হয় নিপা ভাইরাসে। এনআইভি জানিয়েছে যে থামারেসরি থেকে সংগৃহীত টেরোপাস প্রজাতির বাদুড়ের মধ্যে নিপা অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। এই একই অ্যান্টিবডি সনাক্ত হয়েছে কোডিয়াথোর থেকে রাউসেটাস প্রজাতির বাদুড়ের মধ্যে। তবে এই ভাইরাস প্রকোপের তদন্তে এখন সংগৃহীত পঞ্চাশের ওপরে থাকা বাদুড়ের নমুনার ফল পাওয়া বাকি রয়েছে বলে বুধবারই জানিয়েছেন কেরলের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বীণা জর্জ।

কোঝিকোড়ে বাদুড়ের জন্য নিপা ভাইরাস
কেরলের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানিয়েছেন, আরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও বাদুড়ের ওপর নজরদারি ও পরীক্ষা করা জরুরি। সাম্প্রতিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্তে আসা গিয়েছে যে কোঝিকোড়ে নিপা ভাইরাসের প্রকোপ বাদুড় থেকেই ছড়িয়েছে। বীণা জর্জ এও যোগ করে জানান, বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস কীভাবে সংক্রমিত হল তার মাধ্যম সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনও অন্ধকারে রয়েছে।

রাজ্য কাজ করছে
গত ৪ সেপ্টেম্বর কোঝিকোড়ে একমাত্র নিপা ভাইরাসের কেসের পর রাজ্য ২১ দিনের ইনকিউবেশন পিরিয়ড অতিক্রম করেছে এবং এই সময় আর কোনও নতুন কেস সনাক্ত হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানিয়েছেন যে ৪ সেপ্টেম্বরের সেই ঘটনার পর থেকে রাজ্যের প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দফতরের আধিকারিকরা কোঝিকোড় এবং সংলগ্ন এলাকার একাধিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করেছেন। স্বাস্থ্য দফতরের আধাকারিকরাও নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন প্রথম কেস সনাক্ত হওয়ার পর থেকেই, যাতে আর কোনও সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। জর্জ বলেছেন, 'আরও ২১ দিনের সময়কালে (৪২ দিনের সময়) যদি আর কোনও নিপা ভাইরাসের কেস সনাক্ত না হয়, তবে এটা ঘোষণা করা নিরাপদ হবে যে নিপা ভাইরাসের প্রকোপ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তাই এখনও পর্যন্ত রাজ্য অনবরত নিপার ওপর নজরদারি চালিয়ে যাবে।'

কোঝিকোড় ও পঞ্চায়েত এলাকায় চলছে নজরদারি
৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কোঝিকোড় জেলা ও পঞ্চায়েত এলাকায় ক্রমাগত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণমূলক সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, কারণ এই জেলাতেই নিপা ভাইরাসের কেস সনাক্ত হয়েছিল। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ১৬,৭৩২টি বাড়ি ও ৭৬,০৭৪ জন বাসিন্দার ওপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যে ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

ফল খেতে নিষেধাজ্ঞা
এর আগেই স্বাস্থ্য দফতর ফল কুড়িয়ে খেতে নিষেধ করেছে। কারণ সেই ফলে কোনও কারণে বাদুড়ের দাঁত বা লালার স্পর্শ থাকলে সংক্রমিত হতে পারে সেই ব্যাক্তি। সেই সতর্কতা অবলম্বনে এই নিষেধাজ্ঞা। ৪ সেপ্টেম্বর মৃত কিশোরের পরিবার ইতিমধ্যে বলেছে, ফল খেয়েই সেই কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়ে। যদিও সেই এলাকার কোনও ফলে ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি। তাও আগাম সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications