ওড়িশায় ঋণ জালিয়াতি! অভিযুক্ত সংবাদপত্র মালিক সৌম্য পট্টনায়েক, পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
ওড়িশার মিডিয়া ব্যারন সৌম্য পট্টনায়েকের মালিকানাধীন সংবাদপত্র সম্বাদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ওড়িশা পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ, ওই সংবাদপত্র গোষ্ঠী বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে কর্মীদের জাল বেতন সার্টিফিকেট ব্যবহার করে।
সোমবার সম্বাদের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায় ওড়িশা পুলিশের অপরাধন দমন শাখা অর্থাৎ ইওডব্লু। বিজু জনতা দলে বিরোধের কারণে সহ সভাপতির পদ থেকে পট্টনায়েককে সরিয়ে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

ওড়িশার দৈনিকের প্রাক্তন এক কর্মী ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১২০ বি-এর অধীনে অভিযোগ দায়ের করার পরে ওড়িশা পুলিশের অপরাধ দমন শাখা তদন্ত শুরু করে। ইওডব্লুর এক আধিকারিক বলেছেন, ওই সংবাদ মাধ্যম গোষ্ঠীর মানব সম্পদ প্রধান ও চিফ অপারেটিং অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
প্রায় সব ঋণ নেওয়া হয়েছে একই প্যাটার্ন অনুসরণ করে। বাড়ি কিংবা বাড়ি মেরামতের কাজের ভিত্তিতে ব্যাঙ্কের সহজ শর্তে ঋণ প্রকল্পের অধীনে কর্মীদের ৫ লক্ষ টাকা করে ঋণ মঞ্জুব করা হয়েছিল। জাল বেতনের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিল ওই সংবাদপত্র গোষ্ঠী। সেখানে কর্মীদের প্রকৃত বেতন ও সংবাদ মাধ্যমের জমা দেওয়া শংসাপত্রের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
একবার ঋণ মঞ্জুর করা হলে নগদে টাকা তোলা হত। যে ইএমআই হত, তা কর্মীদের নেট বেতনের প্রায় সমান। কোনও কোনও কর্মীর নামে দুবার থেকে তিনবার ঋণ নেওয়া হয়েছে। কর্মীরা ওই সংবাদ মাধ্যম ছাড়লেও, ইএমআই দিয়েছে ওই সংবাদ মাধ্যম গোষ্ঠীই।
ওড়িশা পুলিশের অপরাধ দমন শাখা জানিয়েছে, ৩৫০-এর বেশি সম্বাদ কর্মী ওড়িশা গ্রামীন ব্যাঙ্কের ভুবনেশ্বর আইআরসি গ্রাম শাখা থেকে গত কয়েকবছরে ঋণ নিয়েছেন। তবে এসবিআই কিংবা অন্য ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণ এখনও যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে অভিযোগ উড়িয়ে সম্বাদের তরফে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই। ওই সংবাদপত্র গোষ্ঠীর আরও দাবি, পুরো পর্বটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি মামলা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপরে আক্রমণ।












Click it and Unblock the Notifications