নাগারত্নার নিয়োগের খবরে চাপানৌতর, মিডিয়ার কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন প্রধান বিচারপতি রামানার
নাগারত্নার নিয়োগের খবরে চাপানৌতর, মিডিয়ার কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন প্রধান বিচারপতি রামানার
দেশের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি পেতে চলেছে ভারত। বুধবার সকাল থেকেই এই খবর জোরদার চাপৌনতর চলছিল দেশজুড়ে। সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হচ্ছিল একের পর এক রিপোর্ট। আর তাতেই ক্ষুব্ধ বর্তমান প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা। বিচারপতি নিয়োগের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয় কীভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে তা নিয়ে রীতিমতো তীব্র ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে।

নয়টি শূন্যপদে বিচারপতি নিয়োগের তোড়তোড়
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১২ অগাস্ট বিচারপতি নরিমনের প্রস্থানের পর বর্তমানে নয়টি শূন্যপদ তৈরি হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। সেই জায়গাতেই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম ৯ জন বিচারপতির নামকেই ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি এন ভি রমানার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম নয় জন বিচারপতির নাম জমা পড়েছে বলেও খবর। তালিকায় নাম রয়েছে বিচারপতি বি ভি নাগারত্না।

তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ রামানার
২০২৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের মহিলা বিচারপতি হওয়ার দৌড়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্নাই সবার থেকে এগিয়ে আছেন বলে খবর। যা নিয়ে জোরদার চর্চা চলছে গোটা দেশেই। আর তাতেই ক্ষেপেছেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলা জল্পনা এবং প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে আমি খুবই হতাশ। আপনারা সবাই জানেন আমাদের এই আদালতে বিচারপতি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রক্রিয়া চলমান। সর্বোসম্মতিক্রমে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার কিছু বাধ্যবাধকতা আছে।সেটা আমাদের মিডিয়া বন্ধুদের অবশ্যই বুঝতে হবে।"

সংবাদমাধ্যমগুলিকে আরও বেশি দায়িত্ববান হওয়ার আবেদন
এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলিকে আরও বেশি দায়িত্ববান হওয়ার আবেদনও রেখেছেন তিনি। এদিকে প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা ছাড়াও বিচারপতি উদয় ইউ ললিত, এএম খানভিলকার, ধনঞ্জয় ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং এল নাগেশ্বর রাও এই কলেজিয়াম তৈরি করেছেন বলে খবর। তাই বিচারপতি নিয়োগের যাবতীয় খবর বাইরে চলে আসায় তাদের উপরেও ঘুরিয়ে চাপ বেড়েছে।

১৯৫০ সালে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হওয়ার পর প্রথম যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত
অন্যদিকে ইতিহাস বলছে ১৯৫০ সালে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হওয়ার পর এই প্রথম প্রধান বিচারপতির আসনে বসতে পারেন একজন মহিলা৷ অন্যদিকে বি ভি নাগরত্না ছাড়াও কলেজিয়াম দ্বারা নির্বাচিত তালিকায় রয়েছেন আরও দুই মহিলা বিচারপতি। তালিকায় রয়েছেন বিচারপতি হিমা কোহলি, যিনি আবার বর্তমানে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে তালিকায় থাকা আর এক মহিলা বিচারপতি হলেন বেলা ত্রিবেদী, যিনি আবার বর্তমানে গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতির দায়িত্বে রয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications