ত্রিপুরায় নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান অভিষেকের সফরের আগে! ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় জল্পনা তুঙ্গে
ত্রিপুরায় (tripura) কংগ্রেস (Congress) ক্রমেই খয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। একের পর এক নেতা তৃণমূলে (Trinamool Congress) যোগ দিচ্ছেন। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি পীযূষ বিশ্বাস দল ছাড়ার পরে নতুন দল
ত্রিপুরায় (tripura) কংগ্রেস (Congress) ক্রমেই খয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। একের পর এক নেতা তৃণমূলে (Trinamool Congress) যোগ দিচ্ছেন। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি পীযূষ বিশ্বাস দল ছাড়ার পরে নতুন দল করার কথা ঘোষণা করেছেন, যা সেখানে নতুন রাজনৈতিক জোটের ইঙ্গিত করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ত্রিপুরা সফরের আগে জল্পনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ত্রিপুরায় নতুন রাজনৈতিক দল
গত মাসে পীযূষ বিশ্বাস তৃণমূলে যেতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এরপর সোনিয়া গান্ধী বীরজিৎ সিনহাকে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করার পরে দিন কয়েক আগে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন পীযূষ বিশ্বাস। বীরজিৎ সিনহা ত্রিপুরায় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরে অনেকেই দল ছেড়েছেন এবং তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।। তবে পীযূষ বিশ্বাস সেখানে ব্যতিক্রম। তিনি ইতিমধ্যেই সেখানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। দলের নাম দিয়েছেন ত্রিপুরা ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

তৈরি হতে পারে নতুন রাজনৈতিক শক্তি
১৯৬৯ সাল থেকে ছাত্র অবস্থায় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন পীযূষ বিশ্বাস। নিজেকে কংগ্রেসে অনুগত সৈনিক হিসেবে দাবি করে এআইসিসির বিরুদ্ধে ত্রিপুরার কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। আর নতুন দল গঠনের পরে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, ত্রিপুরার অপর প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদ্যোত মানিক্য দেববর্মনের তুপ্রা মথার সঙ্গে জোট করবেন। ত্রিপুরায় ভোটে উপজাতি ভোট গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ত্রিপুরা উপজাতি পরিষদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে টিপ্রা। ২৮ টি আসনের মধ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সিপিএম তথা বামেরা একটিও আসন পায়নি। সেখানে তিপ্রা ১৮ টি এবং বিজেপি ও আইপিএফটির শাসক জোট নটি আসন দখল করে। নির্দলীয়রা একটি আসন পায়। সেক্ষেত্রে পীযূষ বিশ্বাস নতুন গঠিত দল তিপ্রার সঙ্গে জোট করলে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ত্রিপুরায় উপজাতিদের সঙ্গে নিতে নতুন করে ভাবতে হবে।

অনেকেই যোগ দিয়েছেন নতুন দলে
পীষূষ বিশ্বাসের নতুন দলে যোদ দিয়েছেন প্রাক্তন সহ সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে এবং প্রাক্তন যুব কংগ্রেস সভাপতি পূজন বিশ্বাস। কংগ্রেসের অভ্যন্তনীরণ দ্বন্দ্বে ক্ষুব্ধ অনেকেই তাদের দলে যোগ দেবেন বলে দাবি করেছেন তাপস দে। বিশেষ করে বীরজিৎ সিনহাকে প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়ার পরে তিনি নিজের মতো করে দল সাজিয়েছেন, তারপর থেকেই ত্রিপুরায় প্রদেশ কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কংগ্রেস থেকে সুবল ভৌমিক, প্রকাশ দাস, মুজিবর ইসলাম মজুমদার, মহঃ ইদ্রিশ মিয়া, তপন দত্ত, পান্না দেব, বাপ্টু চক্রবর্তীর মতো নেতারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

ত্রিপুরায় উপজাতিদের গুরুত্ব সিপিএম-এরও
একটা সময়ে ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সিপিএম-এর নৃপেন চক্রবর্তী আর রাজ্য সম্পাদক ছিলেন দশরথ দেব। পরে উপজাতি নেতা দশরথ দেব ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তারপরে মানিক সরকার। কিন্তু এর মধ্যে ২০১৮-তে ত্রিপুরায় ক্ষমতা হারায় সিপিএম তথা বামেরা। তারপর এবছরের শুরুতে ত্রিপুরা উপজাতি পরিষদের ভোটেও পর্যুদস্ত হয় সিপিএম। এরপরে খানিকটা দেরিতে হলেও সম্বিত ফেরে সিপিএম-এর। দলের রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাসের মৃত্যুর পরে উপজাতি নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীকে ত্রিপুরা সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক করেছে সিপিএম। তিনি একদিকে যেমন ত্রিপুরায় বাম মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন, ঠিক তেমনই সাংসদও ছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications