কোভিড ভ্যাকসিনের সময়ে 'নয়-ছয়', সরকারি নির্দেশ নিয়ে উল্টো সুর চিকিৎসকদের গলায়
কোভিড ভ্যাকসিনের সময়ে 'নয়-ছয়', সরকারি নির্দেশ নিয়ে উল্টো সুর চিকিৎসকদের গলায়
কোভিড যুদ্ধে জয়ী রোগীদের টিকাকরণের বিষয়ে মঙ্গলবার নব নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।সেই বিধি নিয়েই তৈরি হয়েছে গোলমাল। কেন্দ্রের মতে, সেরে ওঠার পর ৯ মাস পর্যন্ত নেওয়া যাবে না করোনা টিকা। অন্যদিকে, কেন্দ্রের উল্টো সুর গাইছে চিকিৎসকমহল। ডঃ প্রিয়া সম্পথকুমার ও ডঃ রাহুল পন্ডিতের মতে, "সেরে ওঠার মাত্র ৬ মাস পর পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে অ্যান্টিবডি"। ফলে অ্যান্টিবডি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার পরও বাকি তিনমাস টিকা না নেওয়া কতটা বিপজ্জনক, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে।

আতঙ্ক বাড়াচ্ছে 'কালো ছত্রাক'-র ছায়া
কোভিড আবহে ভয় বাড়িয়েছে 'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস' বা 'কালো ছত্রাক'। ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারে বাড়তে পারে ছত্রাকের আক্রমণ, মত ডঃ সম্পথের। ভারতীয়দের মধ্যে এমনিই চিকিৎসককের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনার প্রবণতা বেশি বেশি। যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খেলে যে শরীরের রোগ প্রতিরোধী শক্তিতে ধ্বসের পাশাপাশি কালো ছত্রাক হানার সম্ভাবনাও বাড়ছে, তা স্পষ্ট জানিয়েছেন ডঃ সম্পথ।

কোভিড ঠেকাতে 'ফেল' করল প্লাজমা!
কোভিডের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কুইনাইনের পাশাপাশি রেমডেসিভির ও প্লাজমা থেরাপির কথা প্রাথমিকভাবে আলোচিত হয় ভারতীয় চিকিৎসকমহলে। স্বাভাবিকভাবেই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থেকে রেমডেসিভির ইনজেকশনের চাহিদা। একইভাবে বর্তমানে প্লাজমা জোগাড়ের উদ্দেশে সুস্থ নাগরিকদের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন অনেকে। ডঃ সম্পথ জানিয়েছেন, "প্লাজমা থেরাপি যে কোভিড চিকিৎসায় অকৃতকার্য, সে বিষয়ে সোমবারই জানিয়েছে আইসিএমআর। এই মর্মে নোটিশ জারি করে নাগরিকদের সচেতন করা উচিত।"

প্লাজমা থেরাপি ব্যর্থ হওয়ায় চিন্তায় চিকিৎসকমহল
প্লাজমা থেরাপিকে কোভিড চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই গত কয়েক মাসে চলেছে বিপুল গবেষণা। সম্প্রতি আইসিএমআরের তরফে জানান হয়, প্লাজমা থেরাপিকে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নানাভাবে। এই থেরাপির ফলে উন্নতি তো হচ্ছেই না, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয়সাপেক্ষ এই চিকিৎসা পদ্ধতি জেরে অহেতুক হতাশায় ভুগছেন রোগীরা। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় করোনা টাস্কফোর্স ও আইসিএমআর যৌথভাবে প্লাজমা থেরাপি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সোমবার।

সংক্রমণের সাতদিনের মধ্যে ব্যবহৃত হয় প্লাজমা থেরাপি
ইতিপূর্বের গাইডলাইন অনুযায়ী, সংক্রমণের সাতদিনের মধ্যে ব্যবহৃত হয় প্লাজমা থেরাপি। যদিও এই পদ্ধতির সাফল্যের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়নি। এরপরেই বেসরকারি-সরকারি ক্ষেত্রে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্লাজমার ব্যবহার শুরু হয়। অবশেষে রোগীদের অবস্থা উন্নতির ক্ষেত্রে প্লাজমার নিষ্ক্রিয়তা চোখে পড়ে, অনেকাংশে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও চোখে পড়ে। এরপরেই এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যপর্ষদ।












Click it and Unblock the Notifications