নেতাজির সংযোগ ছিল দক্ষিণ ভারতেও! মুক্কুলাথোর সম্প্রদায় আজও অন্তর্ধান গল্পের ঘোর বিরোধী
সারা দেশে এদিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৭ তম জন্মদিবস পালন করা হয়েছে। ১৮৯৭-এর ২৩ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অমর, বীরত্বের প্রতীক। দেশের উত্তর-পূর্বের সঙ্গে নেতাজির যেমন সংযোগ ছিল, তেমনই তামিলনাড়ুর পাসুম্পন মুথুরামালিঙ্গা দেবর ও মুক্কুলাথোর সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগও ইতিহাসে লেখা রয়েছে।
প্রতি বছর ৩০ অক্টোবর কলকাতায় ফরওয়ার্ড ব্লক সদর দফতরের কাছে মুথুরামালিঙ্গা দেবরের মূর্তিতে মালা দেওয়া হয়। কলকাতায় তামিল কিংবা মুক্কুলাথোর সম্প্রদায়ের মানুষের এই দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করে থাকে। তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নেতাজি ও দক্ষিণ তামিলনাড়ুর মধ্যে সম্পর্ক সেরকমভাবে আলোকিত হয়নি।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সশস্ত্র সংগ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি গান্ধীজির অধীনে অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস রাখতে পারেননি। তিনি সেই সময় জার্মানি ও জাপানের সমর্থনে ভারতের জাতীয় সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন। সেই সেনাবাহিনীতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় থাকা ভারতীয়রা যোগদান করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন তামিল। তাঁরা মাতৃভূমি ছেড়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও সেই বাহিনীতে যেমন উত্তর-পূর্বের মানুষজন ছিলেন, তেমনই ছিলেন দক্ষিণ তামিলনাড়ুর মুক্কুলাথোর সম্প্রদায় থেকে।
সেই সময় ভারতের জাতীয় সেনাবাহিনী তৈরিতে মুথুরামালিঙ্গা দেবর অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি তামিল যুবকদের নেতাজির বাহিনীতে যোগদান করতে উৎসাহিত করেছিলেন। ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য হাজার হাজার তামিল কারাবাস করেছিলেন, এমন কী তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুথুরামালিঙ্গা দেবর নেতাজিকে তামিলনাড়ুতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমন কী অন্তর্ধানের কয়েক বছর পরেও তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, নেতাজির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। সেই দক্ষিণ তামিলনাড়ুর লোকেরা বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে থাকেন। সেই সব মানুষদের অনেকের নামের সঙ্গে সুভাস কিংবা বোস নাম যুক্ত করে নেতাজির উত্তরাধিকারকে অব্যাহত রেখেছেন।
অন্যদিকে, মুথুরামালিঙ্গা দেবর দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে ফরওয়ার্ড ব্লকের জন্য শক্তঘাঁটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দলের সর্বভারতীয় ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, মুথুরামালিঙ্গা দেবরের প্রভাব দক্ষিণ তামিলনাড়ুর মুক্কুলাথোর সম্প্রদায়ের মধ্যেই রয়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications