কেরল ও মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য, মত এইমস প্রধানের
কেরল ও মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য, মত এইমস প্রধানের
ব্রিটেনের নয়া কোভিড–১৯ কেস যখন ভারতে প্রবেশ করে তখন কেরল ও মহারাষ্ট্র দেশের এই দুই রাজ্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ এই দুই রাজ্য থেকেই সবচেয়ে বেশি নয়া কোভিড স্ট্রেনের কেসগুলি রিপোর্ট হচ্ছিল।

উভয় রাজ্যে নতুন করোনার বোঝা ৭১ শতাংশ
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক গত এক সপ্তাহের তথ্যে দেখিয়েছে উভয রাজ্যেই নতুন করোনা কেসের বোঝা ৭১ শতাংশ, যার মধ্যে মোট কেসের অর্ধেক কেরলে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে দেশজুড়ে মোট ৮০,৫৩৬টি নতুন কেস রিপোর্ট হয়, যার মধ্যে কেরল ও মহারাষ্ট্রে ৫৬,৯৩২টি এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে ৩৯,২৬০টি (৪৯ শতাংশ) কেস ধরা পড়ে।

কেরলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতেই বিগড়োয় পরিস্থিতি
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এইমসের ডিরক্টর ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন যে দু'টি রাজ্যেই অসনাক্ত হওয়া সার্স-কোভ-২ নয়া প্রজাতির স্ট্রেন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, 'রাজ্যে করোনা ভাইরাসের কোনও মিউট্যান্ট স্ট্রেন প্রচলিত রয়েছে কি না তা যাচাই করে দেখতে হবে যা প্রতিদিনের সংক্রমণে উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে।' ন্যাশনাল কোভিড-১৯ টাস্ক ফোর্সের সদস্য গুলেরিয়া কেরলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জানান যে দেশে যখন মহামারি আঘাত হেনেছিল সেই সময় এই রাজ্য সংক্রমণ ঠেকাতে ভালো কাজ করে দেখিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ফের বিগড়ে যায় নিষেধাজ্ঞাগুলি যখন রাজ্যে শিথিল হতে শুরু করে জানান গুলেরিয়া।

কেরল ও মহারাষ্ট্রে হাঁপানি রোগীর সংখ্যা বেশি
রণদীপ গুলেরিয়ার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজ্যে বেশিরভাগ মানুষ বাস করেন তাঁরা সকলেই বৃদ্ধ ও এক বা একাধিক রোগে আক্রান্ত, এই সত্যটি রাজ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের চেয়ে কেরলে হাঁপানি রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ। আইসিএমআরের মহামারি বিশারদ ও সংক্রমক রোগের বিশেষজ্ঞ ডাঃ ললিত কান্ত জানান যে কেরলে রোগ সংক্রমণে বড় ভূমিকা পালন করে ডেমোগ্রাফি। কেরলে বয়সজনিত পরিকাঠামো ও এক বা একাধিক রোগে ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই রয়েছে। ডাঃ কান্ত জানান কেরল ও মহারাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার প্রকোপ এবং প্রবীণদের অংশের পরিমাণ বেশ বেশি। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার গবেষণায় দেখা গিয়েছে কেরলে প্রত্যেক তৃতীয় ব্যক্তি ও মহারাষ্ট্রে প্রত্যেক চতুর্থ জন স্থুলকায়। কেরলে ৩৮ শতাংশ নাগরিক মোটা, অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে এই সংখ্যা ২৫ শতাংশ।

ডায়বেটিস ও উচ্চরক্ত চাপ
একইভাবে উভয় রাজ্যে ডায়বেটিসের সংখ্যাও বেশ বেশি। কেরলে ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা ২৭ শতাংশ ও মহারাষ্ট্রে ১২ শতাংশ। প্রাক্তন আইসিএমআর প্রধান এও জানিয়েছেন যে উচ্চরক্ত চাপযুক্ত রোগী কেরলে রয়েছে ৩০ শতাংশ এবং মহারাষ্ট্রে রয়েছে ২৫ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications