প্রায় ৫০০ পথকুকুর খুন! গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটের পর তেলেঙ্গানায় পথকুকুর নিধন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
তেলেঙ্গানায় আবারও চাঞ্চল্যকরভাবে পথকুকুর হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কামারেড্ডি (Kamareddy) জেলার একাধিক গ্রামে গত কয়েক দিনে প্রায় ২০০টি পথকুকুর মেরে ফেলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর যে, সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে রাজ্যে কুকুর মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫০০ ছুঁয়েছে বলে।

পুলিশ জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় পাঁচজন গ্রাম সরপঞ্চ-সহ মোট ছ'জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, সদ্য হওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গ্রামবাসীদের কাছে পথকুকুর সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। ভোটের পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্যেই নাকি কুকুর নিধনের ছক কষা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, কুকুরগুলিকে বিষ প্রয়োগ করে মারা হয় এবং পরে গ্রামের বাইরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। খবর পেয়ে পশু চিকিৎসক দল মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্ত শুরু করে। ঠিক কী ধরনের বিষ ব্যবহার করা হয়েছে তা জানার জন্য কুকুরগুলির দেহ থেকে সংগ্রহ করা ভিসেরা (Viscera) নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় পশুপ্রেমী এবং সমাজকর্মী আদুলাপুরম গৌতম ( Adulapuram Goutham) মাচারেড্ডি (Machareddy) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি যে, পালওয়ানচা মণ্ডল (Palwancha manda)-এর অন্তত পাঁচটি গ্রামে গত ২-৩ দিনে পরিকল্পিতভাবে কুকুর হত্যা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
এর আগেও তেলেঙ্গানার হানামকোন্ডা (Hanamkonda) জেলায় মর্মান্তিক এক ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছিল। মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রায় ৩০০টি রাস্তার কুকুর মেরে ফেলার অভিযোগ উঠে এসেছিল। অভিযোগ অনুসারে, জানুয়ারি ৬ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত তিন দিনের মধ্যেই শ্যামপেট (Shayampet) এবং আরেপল্লী (Arepally) গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক কুকুর মারা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরেই জানুয়ারি ৯ তারিখে শ্যামপেট (Shayampet) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দুই পশুপ্রেমী সমাজকর্মী আদুলাপুরম গৌতম (Adulapuram Goutham) ও ফারজানা বেগম (Farzana Begum)। সেই ঘটনাতেও সরপঞ্চ এবং পঞ্চায়েত কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
এদিকে, দেশজুড়ে পথকুকুর সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, কুকুরের কামড়ে মৃত্যু অথবা গুরুতর জখমের ঘটনায় রাজ্যগুলিকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। সেইসঙ্গে, কুকুরদের খাবার দেওয়া ব্যক্তিদের দায়িত্ব নিয়েও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।












Click it and Unblock the Notifications