বিদ্রোহী তৃণমূলীদের পাশে পেলে সংসদে কতটা শক্তিবৃদ্ধি হচ্ছে বিজেপি-এনডিএর?
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে বড় বিভাজন দেখা দিয়েছে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। এখন এই বিদ্রোহ লোকসভা ও রাজ্যসভায় বড় আকার নিয়েছে। বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।
প্রায় ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনডিএকে সমর্থন করতে চেয়েছেন। একথা নিশ্চিত করেছেন লোকসভার চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁরা ইতিমধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লাকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।

সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথক গোষ্ঠী হয়ে কাজ করবেন। তাঁরা লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে চিফ হুইপ হিসেবে দাবি করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বার্তা লোকসভা সচিবালয়ে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।
লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সংখ্যা
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| লোকসভায় মোট সাংসদ | ২৮ |
| শূন্যপদ | ১ |
| এনডিএ-কে সমর্থনকারী সাংসদ | ২০ |
| তৃণমূলের সঙ্গে থাকা সাংসদ | ৮ |
এই বিদ্রোহী সাংসদরা এখনই দল ছাড়ছেন না বা বিজেপিতেও যোগ দিচ্ছেন না। তাঁরা লোকসভায় পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। এতে তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের সুরক্ষা পাবেন। এই পদক্ষেপ এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যসভায় পদত্যাগ
রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি উচ্চকক্ষের সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২ জন হয়েছে। তিনি দলের এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি।
আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ড নিয়েও তিনি সরব হয়েছেন। তিনি জানান, দলে তিনি ক্রমশ একা হয়ে পড়ছিলেন। তিনি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন। অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
বিধানসভায় বিদ্রোহ
বিধানসভাতেও তৃণমূলের বিধায়করা বড় ধরনের বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন নতুন গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাঁদের এই নতুন গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
বিধায়কদের এই শিবির বিজেপিতে যোগ দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়নি। তবে তাঁরা গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। বিদ্রোহী বিধায়করা রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকার অনুরোধ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications