২০০ পেরোতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল বিহার, লিট্টি চোখা, জিলিপিতে জমজমাট NDA র বিজয়োৎসব
বিহার ভোটের রায় স্পষ্ট হতেই শুক্রবার দুপুরে বিজেপি ও জেডিইউ কার্যালয় জুড়ে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ল। নির্বাচন কমিশন বিকেল নাগাদ জানিয়ে দিল দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতিতে দাপট দেখানো NDA আবারও ২০০ র গণ্ডি টপকে শক্ত অবস্থানে।
নরেন্দ্র মোদী ও নীতীশ কুমারের জোট এগিয়ে ২০৮টি আসনে। এর মধ্যে বিজেপি ৯৫, জেডিইউ ৮৪, এলজেপি ২০, হ্যাম ৫ ও আরএলএম ৪ আসনে এগিয়ে। অন্যদিকে মহাজোট স্পষ্টভাবে পিছিয়ে, আরজেডি ২৪, কংগ্রেস ২, সিপিআই(এমএল) ১ ও সিপিএম ১, মোট ২৮ আসনে এগিয়ে। এ ছাড়া AIMIM ৬ ও বিএসপি ১ আসনে লড়াইয়ে টিকে।

মোদী নীতীশের মুখোশ পরে ঢাক ও ঢোল পিটিয়ে পাটনার পথে পথে উৎসব। পাটনার বিজেপি কার্যালয় বিকেলেই যেন মেলায় পরিণত। কর্মীরা বিশাল রথে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ছবি বসিয়ে মিছিল করে পৌঁছতেই চারিদিকে উন্মাদনা।
আকাশে গেরুয়া পতাকার অন্যরকম খেলা। মোদী ও নীতীশের মুখোশ পরেই নাচ গান, ঢোলের তালে কর্মীদের উচ্ছ্বাসের ঢেউ।
লিট্টি চোখা থেকে জেলেবিতে বিজয়ের ঘ্রাণে ভাসছে দলীয় কার্যালয়, জেডিইউ দপ্তরে বিশাল নীতীশ কুমার পোস্টারের সামনে সাজানো খাবারের সারি।
জেলেবি, লিট্টি চোখা, সত্তু পরোটা স্বাদে গন্ধে ভরে উঠবে কর্মীদের উৎসবের রাত।
একদল তরুণ হাতে নিল সবুজ থার্মোকল 'তির', স্লোগান তুলল
"তীর চললে, বিহার বাড়বে!"
আকাশে আতসবাজির আলো, মাটিতে সবুজ আবিরের রঙ টিনের ছাউনির নিচে বসে প্রবীণ কর্মীরা বাজাচ্ছিলেন ঢোলক।
বিহারি মেন্যুতে সাজ বিজেপির সদর দপ্তর। দিল্লির বিজেপি দপ্তরও তৈরি জয়ের রাতে বিহারি ভোজ পরিবেশন করতে।
এক কনফেকশনার জানালেন
"সত্তু পরোটা, বেগুন ভর্তা, জিলেপি চাইলে সঙ্গে লিট্টি চোখাও তৈরি করে দেব।"
এদিকে মোখামার আরজেডি প্রার্থী বীণা দেবীর বাড়িতেও রসগোল্লা ও লিট্টি চোখার গন্ধ, গণনার উত্তাপে এই বাড়িতেও চলছে রান্নাঘরের কাজ।
"২০০ ছাড়িয়ে যাব" এদিন সকালে জানিয়েছিলেন নীতিন নাবিন। গণনার শুরুতেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিজেপি প্রার্থী ও মন্ত্রী নীতিন নাবিন। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন "এবারও NDA ই ফিরবে। আমরা ২০০ র বেশি আসন পাব।" আরজেডিকে তিনি বলেন"জঙ্গলরাজের প্রতীক"।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতীশ কুমারের দীর্ঘ শাসনকালকেই দেখানো হচ্ছিল বড় পরীক্ষা হিসেবে। সমালোচনা, জোট পরিবর্তন, রাজনৈতিক চাপ সব কিছু সত্ত্বেও ভোটের প্রবণতা বলল, বিহারের বড় অংশ এখনও তাঁকেই ভরসা করে।
সমর্থকদের দাবি গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক প্রকল্প, সড়ক ও ব্রিজের উন্নতি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জোরেই এ ফল।
ইতিহাস গড়ল ২০২৫, শূন্য পুনর্নির্বাচন, শূন্য হিংসা।
এবারের বিহার ভোটে এক অনন্য নজির কোথাও পুনর্নির্বাচন নয়, কোথাও হিংসার খবর নয়।
দুই দফায় মোট ভোটদানের হার ৬৭.১৩%, যা স্বাধীনতার পর বিহারের সর্বোচ্চ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মোদীর সর্বভারতীয় আবেদন ও নীতীশের গ্রামীণ সংগঠনই NDA কে এনে দিল এই প্রবল সাফল্য।
অভিযান চালানো হয়েছে কল্যাণ প্রকল্প, উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ছট্ পূজার ইউনেসকো স্বীকৃতির প্রচারকে সামনে রেখে।












Click it and Unblock the Notifications