ফর্মুলা ১...২...৩...বিহারে আসন ভাগাভাগির জন্য কোনটি সঠিক, খুঁজছে বিজেপি
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিহারে এনডিএ এখনও আসন ভাগাভাগির জন্য সঠিক সূত্রের সন্ধান করছে। সবরকম রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য আলাদা আলাদা ফর্মুলা তৈরি রেখেছে বিজেপি।
লোকসভা ভোটের আগে বিহারে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে এনডিএ। ইতিমধ্যেই জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু তারপরেও এনডিএ জোটের চারটি দল - বিজেপি, জেডিইউ, এলজেপি ও আরএলএসপি বিহারের ৪০ টি লোকসভা আসন কীভাবে ভাগাভাগি করে নেবে তা নিয়ে ব্যপক গোল বেধেছে।

সমস্যাটা হয়েছে ২০১৭ সালে জেডিইউ এনডিএ-তে প্রত্যাবর্তন করাতেই। ২০১৪ লোকসভা ভোটের আগে এনডিএ ছেড়েছিলেন নীতিশ। ফলে গত লোকসভা ভোটে বিহারের ৪০টি আসন ভাগাভাগি হয়েছিল বিজেপি, এলজেপি ও আরএলএসপি-র মধ্যে। এখন নীতিশ ফিরে আসায়, গতবারের জেতা আসন থেকে তিনটি দলকেই আসন ছাড়তে হবে জেডিইউ-এর জন্য। এতেই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিজেপির অন্দরে বিহারে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বেশ কয়েকটি ফর্মুলার কথা শোনা যাচ্ছে।
ফর্মুলা ১ - বিজেপি ২টি আসন ছাড়ল। রামবিলাস পাসোয়ানের এলজেপিকে দেওয়া হল ৬টি আসন। উপেন্দ্র কুশওয়ার আরএলএসপিকে ২টি আসন। সেক্ষেত্রে জেডিইউ-এর নিজেদের জেতা আন মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ১২টি। কিন্তু বিহারে বিজেপির প্রধান সঙ্গী হিসেবে জেডিইউ আরও আসন দাবি করছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জেডিইউ-কে কোনওভাবেই চটাতে চায় না বিজেপি।
বিজেপি- ২০, জেডিইউ- ১২, এলজেপি- ৬, আরএলএসপি- ২
ফর্মুলা ২ - প্রথম ছকে কাজ না হলে বিজেপি হয়ত ৪টি আসন ছাড়ার পথে যাবে। কিন্তু তা আবার স্থানীয় বিজেপি নেতারা মানতে চাইছেন না। বিজেপির জাতীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে মাথা ব্যথার কারণ, কোন ৪টি আসনে কোপ দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা। তবে তা সত্ত্বেও শোনা যাচ্ছে এই ফর্মুলা জেডিইউ-এর সামনে ফেলতে পারেন বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব
বিজেপি- ১৮, জেডিইউ- ১৪, এলজেপি- ৬, আরএলএসপি- ২
ফর্মুলা ৩ - কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কুশওয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিজেপি নেতারা মনে করছেন এনডিএ-এর হাত ছাড়তে পারে তাঁর দল আরএলএসপি। সেক্ষেত্রে বিজেপির ২টি আসন চাড়লেই চলবে। কিন্তু, জোটসঙ্গীর সংখ্য়া কমলে নীতিশের চাহিদাও বাড়তে পারে, এমনটাই মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। জেডিইউ হয়তো আরও বেশি আসন দাবি করতে পারে। পরিস্থিতি সেরকম হলে বিজেপি ৪টি আসনই ছাড়বে। জেডিইউ পাবে ১৪টি আসন, রামবিলাস পাসওয়ানের হাতে থাকবে ৬টি আসন।
বিজেপি- ২০, জেডিইউ- ১৪, এলজেপি- ৬,
ফর্মুলা ৪ - জোট সঙ্গীদের আসন ভাগাভাগির বিষয়টা তাঁরাই বসে নিজেদের মতো করে ঠিক করুন, এমন মতও রয়েছে বিজেপিতে। সেক্ষেত্রে বিজেপি নিজেদের হাতে ২০টি আসন রেখে, জেডিইউ ও এলজেপি-কে ২০ টি আসন দেবে। জেডিইউ ও এলজেপি, নিজেদের মতো করে সেই ২০ টি আসন ভাগাভাগি করে নেবে। নীতিশ কুমারের সঙ্গে রামবিলাস পাসওয়ানের সম্পর্ক ভাল হওয়ায় এই ফর্মুলা খাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপি- ২০, জেডিইউ + এলজেপি- ২০
ফর্মুলা তৈরি হয়েছে অনেকগুলিই। প্রস্তুতিতে কামতি রাখতে চাইছেন না বিজেপি নেতৃত্ব। যে কোনও পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধান তৈরি রাখা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোন ফর্মুলা খাটে, সেটাই এখন হাতরাচ্ছেন অমিত শাহরা। বিরোধী জোট কিন্তু নিজেদের আসন ভাগাভাগির ছক কষে ফেলেছে। এমনকী কানহাইয়া কুমারকে বেগুসরাই আসন থেকে সিপিআই-এর ব্যানারে দাঁড় করানোর জন্য নিজেদের প্রাপ্য আসনও ছেড়ে দিয়েছেন লালু। বিরোধী শিবিরকে যতটা মসৃণ মনে হচ্ছে, বিহারে এনডিএ-কে এখনও অতটা তেল দেওয়া যন্ত্র লাগছে না।












Click it and Unblock the Notifications