গলায় ফাঁস দিয়ে দেশে আত্মহত্যার হার বেশি, দাবি এনসিআরবি-র রিপোর্ট
গলায় ফাঁস দিয়ে দেশে আত্মহত্যার হার বেশি, দাবি এনসিআরবি-র রিপোর্ট
ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে ক্রমেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে আত্মহত্যার হার ৭.২ শতাংশ বেড়েছে। রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, ভারতে বেশিরভাগ আত্মহত্যা গলায় ফাঁস লাগিয়েই করা হয়েছে। পারিবারিক সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতা জনিত একাধিক ঘটনার জেরে আত্মহত্যাক প্রবণতা ভারতে বেড়ে গিয়েছে।

গালায় ফাঁসে আত্মহত্যার ঘটনার বেশি
ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো রিপোর্টের ২০১৯-২১ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে গত ৫৪ বছরে ৪.৭ কোটি ভারতীয় আত্মহত্যা করেছেন। তারমধ্যে ১৭.৫৬ লক্ষের বেশি মহিলা রয়েছেন। ভারতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালে ৮৮, ৪৬০ জন এবং ২০২১ সালে ৯৩,৫৮০ জন গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। দেশে মোট আত্মহত্যার ৫৮ শতাংশের বেশি গলায় ফাঁস লাগিয়ে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

১৯৯৮ সাল থেকে দেশে আত্মহত্যা বেড়েছে
এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৯৮ সাল থেকে ভারতে হঠাৎ করেই আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকে। সেবছর দেশে ১,০৪,৭১৩ জন আত্মহত্যা করেছিলেন। তারমধ্যে ৪৩, ০২৭ জন মহিলা ছিলেন। এখনও পর্যন্ত ২০২১ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা সব থেকে বেশি। গত বছর ১,৬৪,০৩৩টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৫৩,০৫২টি, ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৩৯,১২৩। ২০১৮ সালে ১,৩৪,৫১৬টি ও ২০১৭ সালে ১,২৯,৮৮৭টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এনসিআরবির রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৩১০ জন রূপান্তকামী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

বেড়েছে গণ আত্মহত্যার ঘটনা
২০২১ সালে আত্মহত্যার সংখ্যা সব থেকে বেশি। এনসিআরবি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ১৩১টি পারিবারিক ও গণ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সব থেকে বেশি ঘটনা তামিলনাড়ুতে ঘটেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২১ সালে তামিলনাড়িতে ৩৩টি গণ ও পারিবারিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তারপরে রয়েছে রাজস্থানে ২৫টি, অন্ধ্রপ্রদেশে ২২টি, কেরলে ১২টি ও কর্ণাটকে ১০টি। তামিলনাড়ুতে ৩৩টি গণ ও পারিবারিক আত্মহত্যার ঘটনায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দেশে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির কারণ
ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্টে জানানো হয়েছে, পেশাগত সমস্যা, মানসিক সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা, একাকীত্ব, হিংসাত্মক ঘটনা, বিভিন্ন ধরনের মাদক আসক্তি, দীর্ঘমেয়াদী রোগ, আর্থিক দুরস্থা ভারতে আত্মহত্যার নেপথ্যে দায়ী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২১ সালে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ ভারতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। দ্বিতীয় বারের লকডাউনে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছিলেন। প্রথমবারের লকডাউনে সঞ্চয়ের ওপর অনেকে নির্ভর করলে, দ্বিতীয়বারের লকডাউনে সেই ভরসাও থাকে না, প্রিয়জনকে হারানোর কারণে অনেকে মানসিক অবসাদে চলে যান।












Click it and Unblock the Notifications