মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে নয়া তরজা সেনা-এনসিপির, সরকার গঠনের জট খুলবে কবে?
মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ক্রমশই ঘোলাটে হয়ে চলেছে। রাজ্যে কোনও দলই সরকার গঠন করতে না পারায় ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। তবে রাষ্ট্রপতি শাসনকে বিজেপি-র পূর্বপরিকল্পিত বলে তোপ দেগেছিলেন শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি নেতারা। তবে বিজেপিকে তোপ দেগেও তিনটি দলে এখনও মিলে সরকার গঠনে ব্যর্থ। এরই মাঝে এনসিপির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে নয়া বিবাদে জড়িয়েছে শিবসেনা।

সরকার গঠন হবে, দাবি তিনটি দলেরই
এদিকে জোটের অন্যতম রূপকার শরদ পাওয়ার সহ সেনা, এমন কি কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়, রাজ্যে কোনও মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, পুরো সময় ক্ষমতায় থাকবে মহারাষ্ট্রের তিন দলের জোট। তিন দল ইতিমধ্যেই অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি তৈরি করে ফেলেছে। যাতে কৃষক ও যুবদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সেখানে হিন্দুত্বের কোনও ইস্যু রাখা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সনিয়া গান্ধী এবং শরদ পাওয়ার মিলিত হওয়ার কথা ছিল। তারা দেখাও করেন। তবে বৈঠক শেষে শিবসেনার সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানান শরদ পাওয়ার। তবে সরকার গঠন নিয়ে আজ ফের একবার পৃথক বৈঠক বসতে চলেছে তিন দলের।

মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে নয়া সমীকরণ
সূত্রের খবর, তিন দলের জোট সরকারে পুরো পাঁচ বছরের জন্য শিবসেনা তাদের দলের মুখ্যমন্ত্রী চাইছে। সেই ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও শিবসেনাকে একটি করে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি সেনা। মন্ত্রিসভায় শিবসেনার ১৬জন, এনসিপির ১৪জন ও কংগ্রেসের ২১ জন মন্ত্রী থাকবেন। তবে পরিস্থিতি বুঝে শরদ পাওয়ার নেমেছেন ক্ষমতার খেলায়। তিনি এখন আর্ধেক সময়ের জন্য এনসিপির মুখ্যমন্ত্রীর দাবি করেছেন। সেই ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছর সেনাকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদ ছেড়ে দিতে পারে এনসিপি। তবে এই ফর্মুলাতে রাজি হচ্ছেন না সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।

এনসিপি-র বক্তব্য
এদিকে এনসিপি-র এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা দাবি করেন ৩০ নভেম্বর ঝাড়খণ্ডের প্রথম দফার নির্বাচন হওয়ার আগেই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন হবে। তবে তিনি জানান সেই ক্ষেত্রে ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলায় মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাবে দুই দল। তবে উদ্ধব যদি তাঁর দাবিতে অনড় থাকেন তবে সরকার গঠন সেই ঝুলেই থাকবে। এরই মাঝে সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত শরদ পাওয়ারকে নিয়ে মন্তব্য করায় পরিস্থিতির আঁচ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, বিজেপির হাত ছেড়ে এর এনসিপির সঙ্গে সরকার গঠনের ফর্মুলার অন্যতম রূপকার সঞ্জয়। তিনি দফায় দফায় শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করে সেনা ও এনসিপিকে এক সূত্রে বাঁধতে চেষ্টা করেন। তবে সরকার গঠনের বিলম্ব নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে সঞ্জয় বলেন, "শরদ পাওয়ারের কথা বুঝতে ১০০ বার জন্ম নিতে হবে।"

ঘোলাটে পরিস্থিতি সম্পর্কে কংগ্রেসের বক্তব্য
মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সি ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে এনসিপির কোনও আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন এক শীর্ষ স্থানীয় কংগ্রেস নেতা। পরিস্থিতি যএ দিকে এগোচ্ছে তাতে তিন দলকে এক সমীকরণ মেনে নিতে দেখা যাচ্ছে না এই মুহূর্তে। এই পরিস্থিতি এত দিন পেরিয়ে গেলেও মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications