শরদ পাওয়ার ইস্তফা প্রত্যাহার করলেন, এনসিপির কোর কমিটির বৈঠকের পরই বদল সিদ্ধান্তে
এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি কোর কমিটি। তাঁকে নেতৃত্বভার চালিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এমনকী এই মর্মে একটি প্রস্তাবও পাস করা হয়েছিল। তার অদ্যাবধি পরেই শরদ পাওয়ার সিদ্ধান্ত বদল করলেন। তিনি জাতীয় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত প্র্ত্যাহার করে নিলেন।

শরদ পাওয়ার নিজের আত্মজীবনী প্রকাশের অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই পদত্যাগের ঘোষণা করে দেন। তারপর পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য এবং নতুন সভাপতি নির্বাচন করার জন্য দলের নেতাদের একটি কমিটিও গড়ে দেন। সেই কমিটিই আজ বৈঠক করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।
এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রফুল্ল প্যাটেল বলেন, "পাওয়ার সাহেব আমাদের না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারপর দলের কর্মী ও নেতা-নেত্রীদের সবার দাবি বিবেচনা করে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস করেছি। কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আমরা তাঁকে দলের সভাপতি হিসাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।"
শরদ পাওয়ারকে উদ্দেশ্য করে প্রফুল্ল প্যাটেল আরও বলেন, "আপনি দেশের একজন শক্তিশালী নেতা, আপনি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু দল তাঁকে তাঁর পদ অব্যাহত রাখতে বলেছে। তাঁকে দায়িত্ব পালন করার জন্য অনুরোধ করেছি।
এরপর শরদ পাওয়ার সিদ্ধান্ত বদল করেন। তিনি মত বদলে জানান, এনসিপির জাতীয় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত তিনি বদল করছেন। আপাতত তিনি নিজের কাঁধেই রাখছেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বভার। কমিটিও তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন অন্তত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর্যন্ত এই দায়িত্বভার সামলাতে।
একটি প্রেস কনফারেন্সে ভাষণ দিতে গিয়ে শরদ পাওয়ার বলেন, "আমি আমার সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিচ্ছি। নতুন উদ্যমে এনসিপির জন্য কাজ করব।" পদত্যাগ করার ঘোষণার পরে যে আবেগের বহিঃপ্রকাশ তিনি দেখেছেন, সে কথা উল্লেখ করে শরদ পাওয়ার বলেন, তিনি এই অনুভূতিকে অসম্মান করতে পারবেন না।

শরদ পাওয়ার বলেন, দলের সদস্যদের আবেগকে সম্মান দিয়েই আমি ইস্তফা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। আপনাদের সবার ভালবাসার কারণে সিনিয়র নেতাদের দ্বারা পাস করা প্রস্তাবকে সম্মান করছি। আমি ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির জাতীয় সভাপতি পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছি।
দলের নেতা-কর্মীরা শরদ পাওয়ারকে তাঁর পদত্যাগ ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি বলেন, কিছু কর্মী আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এদিকে শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলের হাতে দায়িত্বভার উঠতে চলেছে বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। অজিত পাওয়ারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শরু করেছিল। এই অবস্থায় শরদ পাওয়ারকেই দরকার ছিল

অজিত পাওয়ারের অনুপস্থিতি সম্পর্কে শরদ পাওয়ার বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। অন্যরা এখানে আছে। কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তের পর আমি আমার সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিয়েছি। এ নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আলোচনা করছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে সবাই উপস্থিত থাকতে পারে না।












Click it and Unblock the Notifications