প্রকৃতির কোপ নাকি মানুষের দোষ! কেন বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যু!
প্রকৃতির কোপ নাকি মানুষের দোষ! কেন বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যু!
শেষ কয়েক বছরে বর্ষাকালে বজ্রপাত ভয়ঙ্কর ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ চলতি বছর তো রেকর্ড সংখ্যায় স্পর্শ করেছে বজ্রপাতে মৃত্যু। কিন্তু হঠাৎ কেন এত বেড়ে গিয়েছে বজ্রপাত? কেনই বা মারা যাচ্ছে মানুষ? কী বলছেন বিজ্ঞানীরা। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার প্রতিবেদনে আজ রইল সেই আলোচনায়।

কীভাবে হয় বজ্রপাত?
দুটি কিউমুলোনিম্বাস মেঘে সংঘর্ষে থেকে বজ্রপাত তৈরি হয়। এই কারণে একে বজ্রগর্ভ মেঘও বলা হয়। শেষ কয়েক বছরে মূলত এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই কিউমুলোনিম্বাস মেঘ বেশি তৈরি হচ্ছে৷ যার অন্যতম প্রধান কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং তাপমাত্রার বৃদ্ধি। পাশাপাশি দূষণও দায়ী এই কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরির জন্য৷ বেশি জলীয় বাষ্প, বেশি তাপমাত্র, বেশি দুষণ সারা দেশেই কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে।

কী ভাবে হয় বাজ পড়ে মৃত্যু?
একটি বজ্রপাতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ভোল্ট বিদ্যুৎ থাকে৷ যা সরাসরি লোন জিনিসকে আঘাত হানলে তা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ এছাড়া অনেক সময় বজ্রপাতে এর ফলে আশেপাশের বাতাস ১০০০০ থেকে ৩০০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরম হয়ে যায়। এই পরিমান তাপে শরীর পুড়ে গিয়ে মৃত্যু হতে পারে৷ এবং যেখানে বজৃরপাত হচ্ছে তার আসেপাশের অনেকটা অংশে বেশ কিছুক্ষণ পর্যন্ত জোরালো কারেন্ট থাকে এটাও একটা অন্যতম বড় কারণ বজ্রপাতে মৃত্যুর।

কতটা বেড়েছে বজ্রপাত?
ভারতের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৯ সালে ভারত মোট ২৮৭৬ জন বজ্রপাতে মারা গিয়েছেন৷ ২০২০ তে বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যাটা ছিল ২,৩৫৭ জন। ২০১৯ এ বিহারে ৪০০ জন, মধ্যপ্রদেশ ৪০০ জন, ঝাড়খণ্ডে ৪০০ জন এবং উত্তর প্রদেশ ৩২১ জন মামুষ বজ্রপাতে মারা গিয়েছেন৷ )

বাজ পড়লে কী করা উচিৎ নয়?
বাড়ির বাইরে বেরনো, গাছের নীচে দাঁড়ামো,ফাঁকা মাঠে কাজ করা এসবের কোননটাই করা উচিৎ নয় বজ্রপাত চলতে থাকলে৷ বাজ পড়লে সিমেন্টের শক্তপোক্ত বাড়ির মধ্যে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া উচিৎ।












Click it and Unblock the Notifications