হিমাচলে বন্যা, ধস কাশ্মীরে, অরুণাচল ভাসছে প্রবল বৃষ্টিতে, বর্ষায় বিপর্যস্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারত

গত ৪৮ ঘণ্টায় জম্মু ও কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশ সহ পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ দেখা গিয়েছে। এখানে নদীগুলি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে, রাস্তা ভেঙে গিয়েছে এবং গোটা জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কুলুতে বন্যায় একটি কংক্রিটের রাস্তা ভেঙে গিয়েছে।

মঙ্গলবার ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে প্রাণহানি ঘটেছে। রাস্তাঘাট ও জাতীয় সড়ক ভেসে গিয়েছে এবং নদীগুলি ফুলে উঠেছে। হিমাচলের মানালিতে ভয়াবহ বন্যার খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশে ভূমিধস হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের ডোডা অঞ্চলে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি এবং বৈষ্ণো দেবী যাত্রা পথে ভূমিধসের কারণে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। মঙ্গলবার ডোডা জেলায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টির কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০টির বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঠুয়া, সাম্বা, জম্মু, রামবন এবং কিশতওয়ার সহ পুরো জম্মু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এর আগে কাঠুয়া ও কিশতওয়ারেও একই ধরনের মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় জম্মু বিভাগের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিক ভূমিধস এবং পাথর পড়ার ঘটনার কারণে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডোডা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা স্থানীয় নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ভেসে গিয়েছে, যার ফলে ওই এলাকা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তাবি নদীতে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, রাতারাতি নদী এবং খালগুলিতে জলের স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। জম্মু অঞ্চলের জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের জলাশয় এবং ভূমিধস প্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। প্রশাসন মানুষকে রিয়েল টাইমে ঘটনা বা অবরোধের খবর জানাতে অনুরোধ করেছে।

গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টির তথ্য উদ্বেগজনক। কাঠুয়ায় ১৫৫.৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ডোডার ভাদেরওয়াহে ৯৯.৮ মিমি, জম্মুতে ৮১.৫ মিমি এবং কাটরায় ৬৮.৮ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সপ্তাহান্তে, জম্মুতে একদিনে ১৯০.৪ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে - যা গত ১০০ বছরের মধ্যে অগাস্ট মাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

কাশ্মীর উপত্যকায়, দক্ষিণের জেলাগুলি এবং উচ্চ উচ্চতার এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মধ্য কাশ্মীরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত দেখা গিয়েছে, যেখানে উত্তর কাশ্মীর তুলনামূলকভাবে শুষ্ক ছিল। ঝিলম নদীর জন্য কোনও বন্যা সতর্কতা জারি করা না হলেও, জলের স্তর বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হিমাচল প্রদেশের মানালি পর্যটন শহর বিধ্বংসী বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে, যেখানে ভারী বৃষ্টির কারণে বিতস্তা নদী উপচে পড়েছে। এতে দোকান, বাড়িঘর এমনকী একটি বহুতল হোটেলও ভেসে গিয়েছে।

মানালি-লেহ হাইওয়ে বেশ কয়েকটি স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং কুলু ও মানালির মধ্যবর্তী হাইওয়ের কিছু অংশ ভেসে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশে একটি বিশাল ভূমিধসে বালিবারা-চারিডুয়ার-তাওয়াং (BCT) জাতীয় সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দিরংয়ের স্যাপার ক্যাম্প এবং নিউকমাডুংয়ের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছে, যার ফলে প্রায় ১২০ মিটার রাস্তা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

ওড়িশায় সুবর্ণরেখা এবং বৈতরণী নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বালাসোর, ভদ্রক এবং জাজপুর জেলার উত্তরের ১৬০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শুধুমাত্র বালাসোর জেলায়, বালিয়াপাল, ভোগরাই এবং জলেশ্বর ব্লকের ১১৪টি গ্রাম বন্যার জলে তলিয়ে গেছে। জাজপুর ও ভদ্রক জেলাতেও ব্যাপক বন্যার খবর পাওয়া গিয়েছে। কানি নদীর বাঁধ ভাঙার ফলে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ওদিকে ফুলে ওঠা হিমালয়ের নদীগুলি নিচের রাজ্যগুলিকে প্লাবিত করেছে, যার মধ্যে পাঞ্জাব ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। গত দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টি কাপুর্থলা জেলায় বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ফিরোজপুর থেকে বিশেষত নদী তীরবর্তী গ্রামগুলির লোকেরা সরে যেতে শুরু করেছেন।

অবিরাম বৃষ্টি এবং বিতস্তা নদীর জলস্ফীতির কারণে মঙ্গলবার কাপুর্থলা জেলার অনেক গ্রামের বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, যার ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। রাইজিং স্টার কর্পস সেনারা দ্রুত বন্যা মোকাবিলায় সাড়া দিয়ে আমলি, সাম্বা, কাচলে ও সুজানপুর, পাঠানকোট, আদালতগড়, গুরুদাসপুরের গ্রামবাসীদের উদ্ধার করেছে। শতদ্রু, বিতস্তা এবং রবি নদীগুলি ফুলে উঠেছে, যা পাঞ্জাবের বেশ কয়েকটি জেলার গ্রামের জন্য সমস্যা বাড়িয়েছে।

দিল্লিতে, মঙ্গলবার দুপুরে তীব্র বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাত রাজধানীকে গ্রাস করার পর আইএমডি রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সিভিল লাইনস, লাল কেল্লা, লাজপত নগর, নারেলা, বাওয়ানা, আলিপুর এবং আইটিও সহ আশেপাশের এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস ছিল।

আইএমডি একাধিক অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করেছে। দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার জন্য রেড অ্যালার্ট এখনও বহাল রয়েছে। তীব্র বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য বন্যার বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি অংশে আগামী দুই দিনের জন্য হলুদ সতর্কতা কার্যকর থাকবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+