ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ২০২০: শিক্ষানীতিতে সংঘের বিজয় নিশান! গৈরিকীকরণ কতটা জড়িয়ে নীতি নির্ধারণে
ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ২০২০: শিক্ষানীতিতে সংঘের বিজয় নিশান! গৈরিকীকরণ কতটা জড়িয়ে নীতি নির্ধারণে
সংঘ সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছে যে দুটি বোর্ডের সংযুক্তি যেভাবে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ২০২০ তে হয়েছে, তাতে গেরুয়া ঝাণ্ডা আরও উঁচু হয়েছে। শিক্ষানীতিতে পরতে পরতে য়ে সংঘ-ধ্বনি বাজছে তা বলাই বাহুল্য। এছাড়াও সংস্কৃতে জোড় থেকে পড়ুয়াদের চারিত্রিক বিন্যাসের ওপর নম্বর দেওয়ার ঘরনারা নেপথ্যেও সংঘ পরিবার রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, জাতীয় শিক্ষানীতির পরতে পরতে কীভাবে সংঘ-বার্তা জড়িয়ে গিয়েছে।

সাংগঠনিক ক্ষেত্রে থেকে শুরু
গোটা দেশের ৪০ টি বৃহত্তর সেমিনার ও ৬০০ শিক্ষাবিদের সঙ্গে অনেক আগে থেকে কথা বলতে শুরু করে সংঘের কয়েকটি সংগঠন। ভারতীয় শিক্ষা মণ্ডল, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ভারতীয় ভাষা মঞ্চের মতো সংগঠন একযোগে এই শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রককে জানিয়েছে বলে খবর।

নাম বদল
যেভাবে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নাম পরিবর্তন হয়েছে, তাতেও আরএসএস প্রভাব খাটিয়েছে বলে খবর। ২০১৮ সালেই আরএসএস এর ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও ছিলেন বলে খবর।

ভাষা
ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসিতে আলাদা করে মাতৃভাষা গুরুত্ব পেয়েছে। যা ভারতীয় সংস্কৃতিকে উন্নত করবে বলে আশা সংঘেরষ এছাড়াও তিনটি ভাষায় শিক্ষানীতি গেরুয়া শিবিরের মস্তিষ্ক প্রসূত বলে দাবি করা হচ্ছে।

সংস্কৃতি ও আরএসএস
জানা গিয়েছে আরএসএস-এর এই নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট চাপ ছিল কেন্দ্রের উপর। বিজেপি শাসিত রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও আরএসএস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই নয়া নীতি প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে আরএসএস নীতিকে ছুঁয়ে গিয়েও খুব সুক্ষ্মতার সঙ্গে কেন্দ্র অনেক ভালো প্রগতিশীল নীতিও এই শিক্ষা ব্যবস্থায় জুড়ে দিয়েছে। ভারতীয় সংস্কতি নিয়ে পাঠ্যক্রমে আরও বেশি বিষয় যোগ হওয়াটাও আরএসএস তুষ্ট করার জন্য, বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

মানতে হবে নিয়ম
আরএসএস এর অন্দরমহল বলছে যে শিক্ষানীতি নিয়ে এগিয়ে আসা হয়েছে,তা ক্রিস্টান স্কুল ও মাদ্রাসাগুলি মানলে সর্বিকভাবে ভারতীয় শিক্ষানীতি উন্নয়ন করবে। এই শিক্ষানীতি ভারতীয় সংস্কৃতিকে মেনেই করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

দেশাত্মবোধ
এমন শিক্ষাানীতিতে দেশাত্মবোধ সকলের মধ্যে আরও বাড়বে। এর আগে আরএসএস প্রধান মোহনভাগবত জানান, আত্মসম্মান বোধক, স্বয়ং স্মপূর্ণ শিক্ষানীতি ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর সেই প্রতিটি শব্দই এনইপি তে প্রকট হয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের মিশ্রণের ইঙ্গিত, আরএসএস এর নীতিকে আরও তুলে ধরছে বলে খবর।

বিশেষজ্ঞদের দাবি
তবে বহু শিশক্ষাবিদের দাবি, আরএসএস প্রবল প্রভাব শিক্ষানীতিতে খাটাতে চাইলেও তা পারেনি। মোদী সরকার আরএসএস ও নিজস্ব কিছু উপাদান মিলিয়ে এই নীতি গড়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরএসএস এর দাবির তোয়াক্কা করেনি বলেই দেখা গিয়েছে। যেমন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতে প্রবেশকে বহু আরএসএস শিক্ষা সংগঠন বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, শিক্ষার গৈরিকীকরণকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর।












Click it and Unblock the Notifications