৪০ জন শহিদ সিআরপিএফ জওয়ানকে দেশবাসীর শ্রদ্ধা, পুলওয়ামাতে বসছে স্মৃতিসৌধ
শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার প্রথম বর্ষপূর্তি। দেশ ৪০ জন সাহসি সিআরপিএফ জওয়ানকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছ, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু–কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে সিআরপিএ কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হয়। তিন দশকের মধ্যে যা সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তে কর্তব্য করতে গিয়ে নিজেদের জীবনের বলিদান দিতে হয়েছে জওয়ানদের, দেশ আজও তাঁদের কাছে ঋণী।

হামলার জায়গায় বসানো হবে স্মৃতিসৌধ
এই ৪০ জন সাহসী বীরকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গোটা দেশে সারাদিন ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি সিআরপিএফের পক্ষ থেকে লেথপুরা শিবিরে ৪০ জন জওয়ানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক স্মৃতিশৌধ স্থাপন করা হবে। এই স্মৃতিশৌধটি সিআরপিএফ শিবিরের ভেতর এবং হমলার জায়গা সংলগ্ন স্থানে স্থাপন করা হবে, যে জায়গায় জৈশ-ই-মহম্মদ ফিঁদায়ে জঙ্গি আহমেদ দার বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে এসে কনভয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগায়, কনভয় বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তার গাড়িটিও ফেটে যায় এবং নিহত হয় ফিঁদায়ে জঙ্গি। সিআরপিএফের এডিজি জুলফিকার হাসান জানিয়েছেন যে স্মৃতিশৌধটিতে ৪০ জন সিআরপিএফের নাম ও ছবি দেওয়া থাকবে এবং সিআরপিএফের লক্ষ্য ‘সেবা ও নিষ্ঠা', তা লেখা থাকবে।

সিআরপিএফ জওয়ানদের মৃত্যু সেনাকে শক্তিশালী করেছে
জুলফিকার হাসান বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এবং আমরা এর থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমাদের যাতায়াতের সময় আমরা সর্বদা অতিরিক্ত সতর্ক ছিলাম তবে এখন এতে সতর্কতার একটি অতিরিক্ত স্তর যুক্ত করা হয়েছে। ৪০ জন জওয়ানদের সর্বোচ্চ ত্যাগ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে যে দেশের শত্রুদের নির্মূল করতেই হবে।' তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় আমরা অতিরিক্ত জোরের সঙ্গে লড়াই করি এবং সে কারণেই আমরা আমাদের জওয়ানদের উপর হামলার পর-পরই পুরো জৈশ-ই-মহম্মদ কমান্ডারদের খতম করতে সক্ষম হয়েছি।' ১৪ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে সেনাদের চলাচলের ওপর যে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে তা তিনি প্রকাশ না করলেও, সুরক্ষা সংস্থার আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন যে এখন অন্যান্য সুরক্ষা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে সেনারা চলাচল করে।

বাড়ানো হয়েছে সেনাদের নিরাপত্তা
এরকম কোনও হামলার সম্ভাবনা এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সিআরপিএফকে বিমান দিয়েও তাদের সেনা বহন করার অনুমতি দিয়েছিল কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীর সরকার সেনাবাহিনীর চলাচলের সুবিধার্থে এক সপ্তাহে দু'দিন ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে আদেশটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সেনাদের নিরাপত্তার জন্য বুলেট-প্রুফ যান ও কনভয় নিয়ে আসা হয়েছে এবং বাঙ্কারের মতো যানে করে বেশিরভাগ সময়ে সেনাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পুলওয়ামার মাস্টারমাইন্ড নিহত
এই হামলার পেছনে যে মাস্টারমাইন্ড ছিল সেই জৈশ-ই-মহম্মদের স্বষোষিত প্রধান কিয়ারি ইয়াশির গতমাসেই নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications