নাইডুর পরে নীতীশ কুমারের ৩০ হাজার কোটির দাবি! বাজেটে চাপের মুখে নরেন্দ্র মোদী
তেইশ জুলাই সংসদে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার আগে বাজেট নিয়ে কার্যত চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেননা তৃতীয় মোদী সরকারের দ্বিতীয় বড় সহযোগী নীতীশ কুমার রাজ্যের প্রকল্পে সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন।
গত ২০১৪ এবং ২০১৯-এর মোদী সরকারকে এই ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়নি। কারণ দুইবারেই সরকারে বিজেপি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু এবার কেন্দ্রের সরকারকে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর সাহায্য নিতে হচ্ছে। ফলে নীতীশ কুমারের এই দাবি জোট সরকারের কাছে পরীক্ষা বলেও মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নীতীশ ও চন্দ্রবাবুর দাবি
জানা গিয়েছে, গত মাসে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে জেডিইউ-এর এক প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে প্রাকবাজেট বৈঠক করে। তবে এইসব আলোচনা ব্যক্তিগতস্তরে হওয়ায়,চিহ্নিত না করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে সরকারের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কেন্দ্র বিহারের থেকে অনুরোধ পেয়েছে, কিন্তু কত বরাদ্দ করা হবে, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে এবারের জোট সরকারে সব থেকে বড় সহযোগী চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য় আগামী কয়েক বছরে বারো বিলিয়ন ডলারের বেশি সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছে। অর্থাৎ জোটের দুই দলের আর্থিক দাবি বাজেটে খাদ্যে ভর্তুকির ২.২ ট্রিলিয়ন টাকার অর্ধেকেরও বেশি।
আর্থিক চাপে মোদী সরকার
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, মোদী সরকার আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী সহযোগীদের দাবির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে চান. সরকার চায় ঋণের পরিমাণ কমাতে। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উভয় জোটসঙ্গী চায় তাদের আরও ঋণ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।
দেশের রাজস্ববিধিতে ঋণ এলাকার মোট দেশজ উৎপাদনের তিন শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে বিহার চায় কোনও শর্ত ছাড়াই অতিরিক্ত এক শতাংশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ০.৫ শতাংশ ঋণ নিতে।
অন্তর্বর্তী বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৫.১ শতাংশে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত অর্থবর্ষে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির বাজেটে ঘাটতি ছিল ৮.৮ শতাংশের মতো। এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল রেটিং গত সপ্তাহে বলেছে, সম্মিলিত ঘাটতি জিডিপির সাত শকাংশের নিতে নামিয়ে আনলে রেটিং আপগ্রেড হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications