বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে ভারত, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য বজার রেখে এগিয়ে চলেছে ভারত
৭২ তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নামবিয়া থেকে আনা আটটি চিতা মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে মুক্ত করলেন। প্রায় ৭০ বছর আগে ভারত থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায় চিতা। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৫টি মহিলা চিতা ও তিনটি পুরুষ চিতাকে মুক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বন্যপ্রাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির দিক থেকে উন্নতির অর্থ দেশের বস্তুতন্ত্রের ওপর নজর এড়ানো নয়। বাস্তুতন্ত্র না থাকলে, সমস্ত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে আটটি চিতাকে মুক্ত করেন। তারপরেই তিনি বলেন, 'আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ বিশেষ করে পড়ুয়ারা জানেন না দেশে চিতা পাওয়া যায় না। আগের শতাব্দীতেই দেশ থেকে চিতার অবলুপ্তি হয়েছে। এখন আফ্রিকার জঙ্গলের পাশাপাশি ইরানের বেশ কিছু জঙ্গলে চিতা পাওয়া যায়।' মোদী মন্তব্য করেন, 'আমরা চেয়েছিলাম, ভারতীয়রা দেশের কোনও জাতীয় উদ্যানে চিতাকে ঘুরে বেড়াতে বা দৌড়তে দেখুক। সেখান থেকেই আমরা নামবিয়া থেকে চিতা ভারতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম।'
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ইকোনমির সঙ্গে ইকোলজির কোনও বিরোধ নেই। এই বার্তা যে নিছক কথার কথা নয়, বাস্তবে এর উপযোগিতা রয়েছে, তা বিশ্বের কাছে ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে। ভারতে বনাঞ্চলের বিস্তার দ্রুত গতিতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালে এনডিএ সরকার গঠনের পর ২৫০টি বনাঞ্চলকে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। ভারত অর্থনীতির দিক থেকে যেমন এগিয়ে চলেছে। তেমনি বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে বন্যপ্রাণের বাঁচার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, গুজরাতে বর্তমানে ব্যাপক পরিমাণে এশীয় বাঘ দেখতে পাওয়া যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে বন আধিকারিকদের গবেষণা ও চেষ্টা। গুজরাত সরকার বন্যপ্রাণের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছিল। বর্তমানে সেই পরিকল্পনাকেই গুজরাত সরকার বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, গুজরাত সরকার এশীয় বাঘের সংখ্যা দ্বিগুন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। সময়েই আগেই গুজরাত সরকার নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁচেছে। ভারতে হাতির সংখ্যাও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ভারত জুড়ে হাতির সংখ্যা ত্রিশ হাজারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, বন্যপ্রাণের জন্য ক্রমেই প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যপ্রাণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।












Click it and Unblock the Notifications