আত্মনির্ভর ভারত গড়তে যে পাঁচটি স্তম্ভ হবে ভিত্তি, যুগ বদলের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বার্তা মোদীর
করোনার আবহেও নয়া ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখালেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার বার্তা দিলেন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে।
করোনার আবহেও নয়া ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখালেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার বার্তা দিলেন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে। মঙ্গলবার চতুর্থ দফার লকডাউন ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সেখানেই তিনি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার বার্তায় বিশ্বের চালিকা শক্তিতে রূপান্তরের কথা বলেন। বললেন তা সম্ভব পাঁচটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

একবিংশ শতাব্দী ভারতের হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গত শতাব্দী থেকে শুনে এসেছি যে একবিংশ শতাব্দী ভারতের হতে চলেছে। করোনা সঙ্কটের পর গোটা বিশ্বে পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠেছে। এই অবস্থাতেও একবিংশ শতাব্দীকে ভারতের করে তুলতে হবে। ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আত্মনির্ভর হতে হবে। রাষ্ট্র হিসাবে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি।

ভারতের সামনে বড় সুযোগ
প্রধানমন্ত্রীর কথায় এই করোনা সঙ্কট ভারতের সামনে বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। করোনা সঙ্কট শুরুর আগে ভারতে পিপিই কিট তৈরি হত না। এন ৯৫ মাস্ক নামমাত্র তৈরি হত। আর এখন ২ লক্ষ করে পিপিই ও এন৯৫ মাস্ক তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ ভারত বিপদকে সম্ভাবনায় বদলে দিয়েছে।

পাঁচটি বিষয়ই ভিত্তি ভারতের
আর এই সম্ভাবনার বার্তাতেই মোদী বলেন, পাঁচটি বিষয়ের ওপরে ভিত্তি করে ভারত ঘুরে দাঁড়াবে। সেই পাঁচটি বিষয় হল- ইকোনমি বা অর্থনীতি, পরিকাঠামো, সিস্টেম, ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যা এবং পঞ্চম ভিত্তি হবে চাহিদা। তিনি বলেন, দেশে চাহিদা রয়েছে এবং তা বাড়ানোর জন্য সরবরাহের পদ্ধতিকে মজবুত করতে হবে।

আত্মনির্ভরতার পথে ভারত
মোদী বলেন, আমাদের সিস্টেম পুরনো রীতি অনুযায়ী আর চলবে না। আমাদের সিস্টেম গড়ে উঠবে একুশ শতাব্দীর টেকনোলজির ওপর ভিত্তি করে। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন, সেই একনিষ্ঠ সঙ্কল্পই আত্মনির্ভরতার পথে ভারতকে এগিয়ে দিয়েছে। গ্লোবাল ওয়ার্ল্ডে আত্মনির্ভরতার সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছে ভারত। বিশ্বের সামনে ভারতের চিন্তন আশার কিরণ জাগিয়ে তুলেছে। এদেশের সংস্কৃতি ও সংষ্কার বিশ্বের সামনে আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের কাজের প্রভাব বিশ্বকল্যাণে
মোদী বলেন, ভারত আত্মনির্ভরতার কথা বললেও আত্মকেন্দ্রিকতার কথা বলে না। সংসারের সুখ শান্তির কথা বলে। জীবের কল্যাণ, বিশ্বের কল্যাণের কথা বলে। ভারত গোটা বিশ্বকে একসূত্রে গাঁথে। যারা মাটিকে মা বলে- এমন ভাবনা থেকেই সুখী বিশ্বের বীজ লুকিয়ে রয়েছে। ভারতের কাজের প্রভাব বিশ্বকল্যাণে পড়ে।

ভারত মানবজাতির কল্যাণে
মোদীর কথায়, ভারত যখন কোনও সংকট থেকে মুক্তি পায় তখন দুনিয়ার ওপর তার প্রভাব পড়ে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে ভারত লড়ছে। যোগ দিবস বিশ্বকে উপহার দিয়েছে ভারত। ভারতের ঔষধী বিশ্বজুড়ে চর্চায় রয়েছে। ফলে এসব ভারতবাসীর কাছে গর্বের বিষয়। দুনিয়া এটা মানছে যে ভারত মানবজাতির কল্যাণে অনেক কিছু করতে পারে।

দুনিয়ার সেরা ট্যালেন্ট ভারতের কাছে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। ভারত সে সময়ে সমৃদ্ধ ছিল। তারপর ঔপনিবেশিকতাবাদে জড়িয়ে পড়ে। ফের ভারত নতুন করে বিশ্বজয়ে বেরিয়েছে। এখন আমাদের কাছে সামর্থ রয়েছে, আমাদের কাছে দুনিয়ার সেরা ট্যালেন্ট রয়েছে। ফলে আমরা আরও উন্নতি করতে পারব। এটাই আমাদের সংকল্প।












Click it and Unblock the Notifications