৬৫ ঘণ্টায় পর পর ঝোড়ো বৈঠক ও রাষ্ট্রসংঘে হাইভোল্টেজ ভাষণের পর দেশে ফিরলেন মোদী, মার্কিন সফর একনজরে
৬৫ ঘণ্টায় পর পর ঝোড়ো বৈঠক ও রাষ্ট্রসংঘে হাইভোল্টেজ ভাষণের পর দেশে ফিরলেন মোদী, মার্কিন সফর একনজরে
আমেরিকার মাটি ছুঁয়েই কার্যত রকেট গতিতে পর পর কূটনৈতিক বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একদিকে করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের শক্তিধর দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সেদেশের মাটিতে বসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে, চিন ও পাকিস্তানকে একযোগে বিঁধে বিশ্বের সামনে তাদের মুখোশ খোলার লক্ষ্য, এই সমস্ত দিক মিলিয়ে সম্পন্ন হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তিন দিনের হাইভোল্টেজ মার্কিন সফর।

৬৫ ঘণ্টা মোদী
হাতে ছিল ৬৫ ঘণ্টা, আর তাতে পর পর ২৪ টি বৈঠক করেন মোদী। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের পাশাপাশি আমেরিকার বসবাসকারী প্রবাসীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও আলোচনা করেন মোদী। এদিকে, তারই মাঝে তাবড় মার্কিন শিল্পপতিদের সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ে বৈঠক সম্পন্ন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এরই সঙ্গে ছিল কোয়াডভূক্ত দেশগুলির সঙ্গে বৈঠক। আর ছিল রাষ্ট্রসংঘে সাধারণ সভায় ভারতের প্রতিনিধিত্বের চ্যালেঞ্জ। যেখানে কার্যত পাকিস্তান ও চিনকে বিঁধে রীতিমতো তোপ দাগেন মোদী।

ঘরে এল দুষ্প্রাপ্য ১৫৭ টি শিল্পকার্য
টেরাকোটার দানী, ব্রোঞ্জের নটরাজ মূর্তি সহ একাধিক দুষ্প্রাপ্য জিনিস নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে ভারতে এল আমেরিকা থেকে। এদিনই মার্কিন সফর শেষ করে ভারতে ফেরে নরেন্দ্র মোদী। আমেরিকায় তাঁর সফরকালে সেদেশের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বসে বেশ মশকরার মেজাজেই আলোচনা করেন মোদী। বাইডেন তাঁকে বলেন মুম্বইতে এখনও রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহু আত্মীয়। সেই প্রসঙ্গেও চলে আলোচনা। এরই মাঝে অবৈধ শিল্প কার্য পাচারের চক্ররোধ করার বার্তা মোদী দেন বাইডেনকে। এরপরই দেখা যায়, মার্কিন মুলুক থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও দনৈ ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নানান শিল্প কার্য সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরেন মোদী।

পর পর বৈঠক
২২ সেপ্টেম্বর আমেরিকার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেকানে নেমেই ওয়াশিংটন ডিসিতে পর পর ৩ টি বৈঠক করেন তিনি। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মার্কিন শিল্পপতিদের সঙ্গে ৫ টি আলাদা বৈঠক সম্পন্ন করেন তিনি। এই দিনই ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে মোদীর বৈঠক। পরে জাপানের রাষ্ট্রনেতা ইয়োশিহিডে সুগা ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রনেতা স্কট মরিসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি।

সফরের শেষে হাইভোল্টেজ কূটনৈতিক বৈঠক
সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ, কোয়াডভূক্ত দেশগুলির সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক ঘিরে রীতিমতো নজর ছিল দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতির। সেখানে চিনা আগ্রাসন ও পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদে মদত প্রসঙ্গে ঝোড়ো বার্তা দেন মোদী। বহু দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে করোনা থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন মোদী। এরপর রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। মোদীকে স্বাগত জানিয়ে সফরকে 'সফল' ও 'ফলপ্রসূ' তকমা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।












Click it and Unblock the Notifications