অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর প্রথম খসড়ায় নেই ৭০ শতাংশ বাঙালির নাম, উঠছে নানা প্রশ্ন
উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়ার নাম অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর প্রথম খসড়ায় থাকলেও, নেই ৭০ শতাংশ বাঙালির নাম। চিকিৎসক, অধ্যাপক-সহ বহু পরিচিত নাগরিকের নাম প্রথম খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়ার নাম অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর প্রথম খসড়ায় থাকলেও, নেই ৭০ শতাংশ বাঙালির নাম। চিকিৎসক, অধ্যাপক-সহ বহু পরিচিত নাগরিকের নাম প্রথম খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে প্রকাশিত অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর প্রথম খসড়ায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রধান এবং ধুবড়ির সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল এবং তাঁর ছেলে যমুনামুখের বিধায়ক আব্দুর রহিম আজমল এবং ভাই বড়পেটার সাংসদ সিরাজুদ্দিন আজমল।
তালিকায় নাম নেই, অভয়াপুরী দক্ষিণের বিধায়ক অনন্তকুমার মালো, ধিং-এর বিধায়ক আমিনুল ইসলাম, গৌরীপুরের বিধায়ক নিজামুর রহমান, বিলাসীপাড়া পশ্চিমের বিধায়ক হাফিজ বসির আহমেদ কাসিমীরও।

তালিকায় নাম নেই একাধিক বিজেপি বিধায়কেরও। তাঁরা হলেন হোজাইয়ের শিলাদিত্য দেব, গোলকগঞ্জের অশ্বিনী রায় সরকার। তালিকায় নাম না থাকা কংগ্রেস বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন, সেঙ্গার সুকুর আলি, বাঘবরের শেরমান আলি, রূপোহির নুরুল হুদা।
তবে প্রথম খসড়ায় পরেশ বড়ুয়া ছাড়াও নাম রয়েছে বিদ্রোহী অরুনুধয় দোহোটিয়া এবং এনডিএফবি নেতা বি বিদাইয়ের। তালিকায় বড়ুয়া পরিবারের পাঁচ সদস্যেরও নাম রয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে পরেশ বড়ুয়ার প্রয়াত মা মিলিকি বড়ুয়ারও।
অসমের স্বাধীনতার দাবিতে প্রায় ৪০ বছর আগে আন্দোলন শুরু করেন পরেশ বড়ুয়া। এই মুহূর্তে তিনি চিন-মায়ানমার সীমান্তের কোনও এক জায়গায় আত্মগোপন করে রয়েছেন।
যদিও কিছু তথ্য না থাকায় বড়ুয়ার স্ত্রী ববি বড়ুয়া এবং দুই ছেলে অঙ্কুর এবং আকাশের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
প্রথম খসড়ায় বহু নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ জানিয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এখনও পদ্ধতিগত অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অসমের বরাক উপত্যকায় প্রায় ১০০ শতাংশ বাঙালির বাস। সবমিলিয়ে প্রথম খসড়ায় বাদ পড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ বাঙালির নাম। তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন তিন চার প্রজন্ম ধরে অসমে বসবাসকারী বাঙালি পরিবারও। এর মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, অধ্যাপকরাও। যাঁদের নাম এই তালিকায় নেই, স্বভাবতই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।
৩. ২৯ কোটি মানুষ আবেদন করলেও, অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর প্রথম খসড়ায় নাম উঠেছে ১.৯ কোটি মানুষের। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতকরণেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজেপি।
ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। ভাষা ও ধর্মকে নিয়ে বিপজ্জনক ভাবনা বলে বিষয়টি নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications