বোড়ো শান্তি চুক্তির পর 'নাগা বিধবা'দের আর্জি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে
বোড়ো শান্তি চুক্তির পর 'নাগা বিধবা'দের আর্জি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে
সোমবার স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক বোড়ো শান্তি চুক্তি। আর একদিন পরই নাগা বিধবারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেন নাগা সমস্যার সমাধের জন্যে। সেরাজ্যের অন্যতম প্রধান নাগা বিদ্রোহী গোষ্ঠী নাগালিমের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক কাউন্সিলের মৃত বিচ্ছিনতাবাদীদের বিধবারা এই আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদীকে।

প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে তাঁরা লেখেন, 'আমরা নাগরা এবং সাধারণভাবে যুদ্ধের বিধবারা আপনাকে জানাতে চাই যে আমরা চলমান ইন্দো-নাগা রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে নজর রাখছি। এই বিষয়ে আপনি যে দিকনির্দেশনা চালিয়ে যাচ্ছেন তাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি আমরা। আমরা ইতিবাচক মানসিক অবস্থানে রয়েছি যে আপনি এই সমস্যার সমাধান করবেন। আমরা বিশ্বাসী ও আশাবাদী যে আপনার নেতৃত্বে আমাদের আশা এবং আকাঙ্ক্ষাগুলি পূর্ণ হবে।'

'আমরা আশাবাদী'
তাঁরা আরও লেখেন, 'প্রথমবার ১৯৫৪ সালে কোহিমাতে প্রথম নাগা বিচ্ছিনতাবাদী মারা যাওয়ার পর থেকে যে কত মানুষ মরেছে তার সংখ্যা আমরা ভুলে গিয়েছি। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু। তবে এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র ও নাগালিমের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক কাউন্সিলের আলোচনা অনেক এগিয়েছে। আগে আমরা একে অপরকে বুঝতাম না। তবে এখন কথা এগোচ্ছে। আমরা আশাবাদী।'

বোড়োল্যান্ড শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর
সোমবার উত্তর-পূর্বের অন্যতম বিচ্ছিনতাবাদী সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ডের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে কেন্দ্র। পৃথক বোড়োল্যান্ড রাষ্ট্র দাবি জানিয়ে আন্দোলন করা অল বোড়ো স্টুডেন্টস ইউনিয়নও (এবিএসইউ) এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। গতবছরের ২৫ নভেম্বর অসমের বোড়ো জনগোষ্ঠীদের বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বড়োল্যান্ডের উপর আরও পাঁচ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। ১৯৯০ সালে প্রথমবার এই সংগঠনটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর থেকে প্রতি পাঁচ বছর অন্ত এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। আজকের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সংগঠনটির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কেন্দ্র।

ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর
কেন্দ্র নিষিদ্ধ সংগঠনের দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্ববানন্দ সোনোয়াল উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আজ কেন্দ্র, অসম সরকার এবং বোড়ো প্রতিনিধিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তি অসম এবং বোড়ো জনগণের সোনালী ভবিষ্যত নিশ্চিত করবে।' এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বোড়ো আদিবাসীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়া হবে। পৃথক বোড়োল্যান্ড রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির সংগঠনের মূল দাবি থেকে সরে আসার কথা সংগঠনগুলি মেনে নেওয়ায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।












Click it and Unblock the Notifications