১১ বারেরও বেশি ভোল বদলাচ্ছে বহুরূপী করোনা, বেঙ্গালুরুর সংক্রমণ নিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
১১ বারেরও বেশি ভোল বদলাচ্ছে বহুরূপী করোনা, বেঙ্গালুরুর সংক্রমণ নিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ। পাশাপাশি দেশে শুরু হয়েছে কোভিডের দ্বিতীয় ইনিংস। এদিকে কেরল-মহারাষ্ট্র সহ মোট ৬ রাজ্যে প্রত্যহ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এসবের মাঝেই বেঙ্গালুরুর নমুনায় কোভিড ভাইরাসের অভিযোজন দেখে চমকে উঠেছেন করোনাবিদরা। আগের চেয়েও অধিক সংক্রামক হওয়ার লক্ষ্যে খুব তাড়াতাড়ি রূপ বদল করছে কোভিড ভাইরাস, মত বিশেষজ্ঞদের!

বেঙ্গালুরুতে অভিযোজনের হার জাতীয় হারের চেয়ে বেশি
বেঙ্গালুরুর কোভিড রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস (আইআইএসসি)। আইআইএসসির বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ও জৈবরসায়নের অধ্যাপক উৎপল টাটুর বক্তব্য, "বেঙ্গালুরুতে আইসোলেশনে থাকা তিন জনের নমুনায় ২৭ রকমের অভিযোজন দেখা গেছে। প্রত্যেক নমুনায় ১১ রকমের অভিযোজন দেখা গেছে যে অভিযোজনের জাতীয় হার (৮.৪)-এর থেকেও বেশি!"

সংক্রমণের ধার বুঝতে বিশেষ পদ্ধতির ব্যবহার বিজ্ঞানীদের
অভিযোজনের ফলে ভাইরাস কোষে নতুন প্রোটিনের দেখা মিলছে, পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার অংশ হিসেবে তৈরি হচ্ছে বেশ কিছু প্রোটিন, এমনটাই জানালেন আইআইএসসি গবেষকরা। একটি বিবৃতি মারফত আইআইএসসি জানিয়েছে, "ভাইরাসের অভিযোজনের গতিপথ বোঝার জন্য প্রোটিওজিনোমিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।" পাশাপাশি এহেন গবেষণার নমুনা যে রোগীদের অনুমতি নিয়েই সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে আইআইএসসি আধিকারিকরা।

কী এই প্রোটিওজিনোমিক গবেষণা পদ্ধতি?
গবেষকদের মতে, শারীরিক প্রোটিনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও আরএনএ-কে খুঁটিয়ে বিচার করে অ্যামাইনো অ্যাসিডের সজ্জা বা পেপটাইড বন্ডগুলিকে চিহ্নিত করার পদ্ধতিই হল প্রোটিওজিনোমিক গবেষণা। টাটুর মতে, পরবর্তী প্রজন্মের জিনোম সিকোয়েন্সিং (এনজিএস) ব্যবহার করে বিশ্বের নানা ভাইরাল নমুনা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এই পদ্ধতিতে ভাইরাসের অভিযোজনকে হিসাবের মধ্যে রাখা সম্ভব বলেও জানান জৈবরসায়ন বিশেষজ্ঞরা।

বেঙ্গালুরুর ভাইরাসের নমুনার সাথে মিল রয়েছে বাংলাদেশের নমুনার
বিশ্বে কোভিড ভাইরাসের উৎস ও ক্রমাগত বিবর্তনের ক্রম বোঝার উদ্দেশ্যে একটি 'গ্লোবাল ফাইলোজেনেটিক ট্রি' তৈরি করার চেষ্টায় রয়েছেন আইআইএসসি গবেষকরা। সূত্রের খবর, জিনোম সিকোয়েন্সিং ও এহেন তথ্যচিত্র বা মডেল গঠনের মাধ্যমে ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল ও অভিযোজনের মাত্রা বোঝা সম্ভব। অন্যদিকে আইআইএসসি গবেষকদের মতে, তথ্যচিত্র অনুসারে বেঙ্গালুরুর ভাইরাসের নমুনার সাথে মিল রয়েছে বাংলাদেশের নমুনার।












Click it and Unblock the Notifications