আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা অন্তত ৩০ জনকে খুঁজে বের করুন, মুখ্যমন্ত্রীদের বললেন মোদী
নতুন করে দেশজুড়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। প্রত্যেকদিন রেকর্ড ভেঙে আক্রান্ত হতে হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষকে। অনেকে বলছেন এটি নাকি করোনার সেকেন্ড ওয়েভ! আর এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধেয় দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক কর
নতুন করে দেশজুড়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। প্রত্যেকদিন রেকর্ড ভেঙে আক্রান্ত হতে হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষকে। অনেকে বলছেন এটি নাকি করোনার সেকেন্ড ওয়েভ!

আর এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধেয় দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হতে চলেছে যে একমাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে হল প্রধানমন্ত্রী মোদীকে।
গত চারদিনে তিনবার ভারতে একলক্ষের গন্ডি পেরিয়েছে সংক্রমণের সংখ্যা। এর আগের বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জায়গাতে নতুন করে করোনার সংক্রমনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আটকাতে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।
কিন্তু গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে সেই ওয়েভ সম্ভবত আটকানো যাচ্ছে না। এর আগের বৈঠকে টেস্টিং ট্রেসিং ট্রিটমেন্ট সহ পাঁচ স্ট্র্যাটেজি নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী করোনা নিয়ে যারা রাজনীতি করছেন তাঁদের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, যারা এমনটা করছে করতে দিন। আমি এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাইনা। সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যাতে একজোট হয়ে এই অতিমারীর মোকাবিলা করেন সেই আশা রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ ঠেকানো প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ''করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের একটা বড় কারণ দেশবাসীদের গা-ছাড়া মনোভাব। অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের পদক্ষেপেও এই গয়ংগচ্ছ বিষয়টি লক্ষ্যনীয়। এই মনোভাব নিয়ে চললে করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউকে ঠেকানো যাবে না।''
সেজন্যে এখনই দেশের মানুষকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর।
দেশের যুব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, টিকাকরণ প্রক্রিয়াতে তাঁরা যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। যে সব পরিবার প্রযুক্তির দিক দিয়ে পিছিয়ে তাদের কো-উইন পোর্টালে রেজিস্টার করার ক্ষেত্রে এনসিসি ক্যাডেটদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, প্রথম ধাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়েই দ্বিতীয় ওয়েভের মোকাবিলা করার ডাক মোদীর। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন যে, আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছে এমন অন্তত ৩০ জনকে খুঁজে বের করতে হবে। আর তা করতে পারলে সেকেন্ড ওয়েভের চেন ভাঙা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গোটা দেশে টিকা উৎসব পালন করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নতুন উপায় বের করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশে ৪৫ বছরের উর্ধ্বে সকলের টিকাকরণের জন্য ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল গোটা দেশে টিকা উৎসব পালন করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
১১ তারিখ রয়েছে জয়তীবা ফুলের জন্মদিন। অন্যদিকে ১৪ এপ্রিল বাবা সাহেব আম্বেদকরের জন্মদিবস। এই চারদিন ধরে গোটা দেশে ১০০ শতাংশ টিকাকরণের জন্য হবে টিকা উৎসব।
মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে রিভিও মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গোটা দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তবে লকডাউনের পথে এখনই দেশ হাঁটবে না বলেও নিশ্চিন্ত করেছেন তিনি। ছোট ছোট কন্টেইনমেন্ট জোন করে নজরদারি ও পরীক্ষা চালানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে রাজ্যগুলিকে আরও করোনা পরীক্ষা বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক হয়ে কাজ করার কথা বলেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications