Muslims: আহমেদ-আবদুল্লা হয়ে গেলেন দুবে-শুক্লা, সম্প্রীতি ধরে রাখতে হিন্দু ব্রাহ্মণ পদবী গ্রহণ মুসলিমদের
Uttar Pradesh: উগ্র ধর্মান্ধতার বশবর্তী হয়ে যখন বাংলাদেশে (Bangladesh Violence) সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চলছে, ঠিক তখনই ভারতের উত্তরপ্রদেশে সৌহার্দ্যের বার্তা দিয়ে পদবী পরিবর্তন করছেন সংখ্যালঘুরা (Minorities)। হিন্দু ব্রাহ্মণদের পদবী (Brahmin Surnames) গ্রহণ করছেন একের পর এক মুসলিম পরিবার। সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তারা।
উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের (Jaunpur) দেহরি গ্রাম মুসলিম (Muslim) অধ্যুষিত। দীর্ঘ বছর ধরে মুসলিমরা বসবাস করছেন সেখানে। জেলা সদর শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত দেহরি গ্রাম (Dehri Village)। সম্প্রতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে এই গ্রাম। মুসলিম পরিবারের নামের সঙ্গে হিন্দু ব্রাহ্মণ উপাধি গ্রহণ করার নজির সৃষ্টি করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে দেহরি।

দেহরি গ্রামের বছর ষাটের বাসিন্দা নওশাদ আহমেদ। অথচ মেয়ের বিয়ের কার্ডে পাত্রীর বাবার নাম লেখা নওশাদ দুবে। সেই বিয়ের কার্ড গ্রামের অন্যান্য মুসলিম পরিবারের কাছে পৌঁছতেই সামনে আসে ঘটনা। নওশাদের মতে, তাঁর পূর্বপুরুষরা হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের। উত্তরপ্রদেশের আজমগঢ়ে থাকাকালীন সাত-আট প্রজন্ম আগে তারা ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি নওশাদের।
নওশাদের বাবার নাম লাল বাহাদুর দুবে ছিল বলেও জানান তিনি। ধর্ম পরিবর্তন করে লাল বাহাদুর শেখ হয়েছিলেন তিনি। নওশাদ বলেন, "আমাদের অন্য ধর্মে রূপান্তর করা হয়েছিল। ইতিহাস ঘেঁটে দেখার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছিলাম। বহু প্রজন্ম আগে সবে মিলে জৌনপুরে চলে এসেছিল দুবে পরিবার। তাই আমি আমার পূর্বপুরুষদের পদবীতে ফিরে পাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
নওশাদ নিজে উর্দুতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এক ছেলে ও দুই মেয়েও উচ্চশিক্ষিত। তবে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেননি নওশাদ। গ্রামের মানুষ তাঁকে মুসলিম ব্রাহ্মণ বলেই ডাকে। এমনকি গরুও পালন করেন নওশাদ। তাঁরই দেখানো পথে হেঁটেছেন অন্যান্যরাও। আবদুল্লা দুবে, সিরাজ শুক্লারাও হিন্দু পদবী গ্রহণ করেছেন।
তবে ওই একই গ্রামে ব্যতিক্রমীরাও আছেন। নওশাদের মতো হিন্দু পূর্বপুরুষ রয়েছে এথেশ্যাম আহমেদেরও। সেকথা স্বীকারও করছেন তিনি। কিন্তু পদবী পরিবর্তন করেননি তিনি। মুসলিম হয়েই থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ধর্মের ভেদাভেদ ঘুচিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চান দেহরির বাসিন্দারা। নওশাদকেও তাই বলতে শোনা যায়, "ধর্মাচরণের মূল উদ্দেশ্যই ভ্রাতৃত্ববোধ হওয়া উচিত। ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো নয়।"












Click it and Unblock the Notifications