Supreme Court: তালাক দিলেও স্বামীর কাছে খোরপোষ চাইতে পারেন স্ত্রী, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
শুধু হিন্দু মহিলারা নন। মুসলিম মহিলারাও এবার বিচ্ছেদের পর খোরপোষ দাবি করতে পারেন স্বামীর কাছ থেকে। স্ত্রীকে খোরপোষ দেওয়ার বিরোধিতা করে এক ব্যক্তি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাতেই বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট মামলাকারীকে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তাঁর স্ত্রীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ অনুচ্ছেদের আওতায় মুসলিম মহিলারাও খোরপোষের দাবি জানাতে পারেন। অর্থাৎ তাঁরাও খোরপোষ পেতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নাগরত্ন বলেছেন, বিবাহ বিচ্ছেদ হলে যেকোনও ধর্মের মহিলাই খোরপোষের দাবি জানাতে পারেন। এবং সেটা পেতেও পারেন। এক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম কোনও ভাগ নেই। কারণ ফৌজদারি আইনের ১২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়ছে প্রত্যেক মহিলার ক্ষেত্রেই এই আইন কার্যকর। শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলাই নন, প্রত্যেক মহিলার ক্ষেত্রেই কার্যকর।
মামলার শুনানির সময় বিচারপতি বলেছেন, অনেক স্বামীর গৃহবধূদের কাজের স্বীকৃতি দিতে জানেন না বা তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিতে চান না। কিন্তু এবার সেই মর্যাদা দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। কারণ স্বামীরা মনে করেন গৃহবধূ স্ত্রীরা কেবল তাঁদের উপর নির্ভরশীল।
আদালত এদিন আরও জানিয়েছে যে খোরপোষের আবেদন মুলতুবি থাকতে থাকতেই যদি বিবাহ বিচ্ছেদে সিলমোহর পড়েযায় তাহলে তিনি খোরপোষ পাবেন। ১৯৮৬ সালের মুসলিম মহিলা (বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অধিকার রক্ষা) আইন ধর্মনিরপেক্ষ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কাজেই এই আইনের সুবিধা মুসলিম মহিলারাও পেতে পারেন।
তবে ১৯৮৬ সালের মুসলিম মহিলা (বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অধিকার রক্ষা) আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় ইদ্দতের সময পেরিয়ে গেলে মহিলা যদি দ্বিতীয় বিবাহ না করেন তাহলে সেই বিবাহ বিচ্ছিন্না মহিলার জন্য আদালত টাকার বন্দোবস্ত করে দেবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরে আর সেই আইন কার্যকর হবে না। এই আইন সব মহিলার ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে।












Click it and Unblock the Notifications