কানপুরের রাস্তায় মুসলিম ব্যক্তিকে মারধর, গ্রেফতার করেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধৃত তিনজনের জামিন
কানপুরের রাস্তায় মুসলিম ব্যক্তিকে মারধর
৪৫ বছরের এক মুসলিম ব্যক্তিকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জনতা, তাঁকে মারধর করছে এবং তাঁকে দিয়ে জোর করে 'জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া করাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এই ঘটনার ভিডিএ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তিনজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেও ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেও তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মুসলিম বক্তিকে মারধরের ভিডিও
সংশ্লিষ্ট থানা থেকে জামিন মঞ্জুর করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তা সাত বছরের কম শাস্তি ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের থেকে পাওয়া ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে ওই ব্যক্তির ছোট্ট মেয়ে ওই ঘটনার সময় কেঁদে চলেছে এবং হামলাকারীদের কাছে হাতজোড় করে তার বাবাকে মারধর না করার মিনতি করছে। ফুটেজে এও দেখানো হয়েছে যে পুলিশ হেফাজতের সময়ও তাঁকে মারধর করা হয়।

তদন্ত শুরু হয়েছে
কানপুরের পুলিশ কমিশনার অসীম অরুণ বলেন, 'আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করেছি, তারাই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত। আমরা এই ঘটনায় অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আমরা অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রতিটি আইনি পদক্ষেপ অনুসরণ করছি।' তিন অভিযুক্তের গ্রেফতারের পর বজরং দল কর্মীরা বুধবার সংশ্লীষ্ট থানার বাইরে প্রতিবাদ সভা করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস পুলিশের কাছ থেকে পাওয়ার পরই তারা থানা চত্ত্বর ছাড়ে। বজরং দলের পক্ষ থেকে এও বলে যাওয়া হয় যে অভিযুক্তদের না ছাড়া হলে তারা ফের ফিরে আসবে।

বজরং দলের কর্মীদের ছাড়তে হবে
বৃহস্পতিবার বজরং দলের নেতা কৃষ্ণা বলেন, 'বজরং দলের কর্মীরা একত্রিত হয়ে এসপিকে ঘেরাও করেন এবং আমাদের কর্মীকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা পুলিশ থানা থেকে নড়ব না বলে জানাই। আমরা শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করি যাঁরা আমাদের জানান যে আমাদের কর্মীদের শীঘ্রই ছাড়া হবে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু হবে।'

ঘটনার সূত্রপাত
শহরে বজরং দল এক জনসভা করছিল। তাদের অভিযোগ একটি হিন্দু মেয়েকে স্থানীয় মুসলিমরা ধর্মান্তরের চেষ্টা করছেন। বজরং দলের সভার পরে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। বৃহস্পতিবার কানপুর পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এক ব্যক্তি ও তাঁর ১০ সঙ্গীর বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ঘটনা করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি একটি ম্যারেজ ব্যান্ড চালান। তবে ওই ব্যক্তি বজরং দলের সদস্য কিনা তা জানায়নি। আক্রান্ত ব্যক্তি ই-রিক্সা চালান। তিনি জানিয়েছেন বেলা তিনটের সময় তিনি ই-রিক্সা চালাচ্ছিলেন। আচমকা একদল লোক তাঁকে মারধর করতে থাকে। তারা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে খুন করবে বলে হুমকি দেয়। ওই ব্যক্তির কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে হিন্দু প্রতিবেশীদের আইনি লড়াই চলছে। কানপুর পুলিশ জানিয়েছে, হিন্দুদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ হয়েছে যে এক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা হয়। তবে সূত্রের খবর, হিন্দু-মুসলিম পারিবারিক বিবাদে সম্প্রতি জড়িয়েছে বজরং দল। তাদের অভিযোগ, মুসলিম পরিবারটি একটি হিন্দু মেয়েকে জোর করে ধর্মান্তরের চেষ্টা করেছিল।

ধর্মান্তেরর বিরুদ্ধে আইন
ইতিমধ্যে জোর করে ধর্মান্তর করার বিরুদ্ধে আইন নিয়ে এসেছে দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ। বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যগুলিও এই আইন আনার কথা ভাবছে।












Click it and Unblock the Notifications