৩ দেশের অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে উদ্যোগী কেন্দ্র, শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ মুসলিম লীগের
৩ দেশের অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে উদ্যোগী কেন্দ্র, শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ মুসলিম লীগের
দুদিন আগেই ৭ বছর পূর্ণ হল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। মোদী জমানায় সব ঘটনাকে ছাপিয়ে নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিরোধী আন্দোলন। গতবছর ১০ই জানুয়ারি প্রথম দেশে লাঘু হয় এই 'নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন' (সিএএ)। যদিও ২০১৯-র শেষ থেকেই দেশে ঘনীভূত হয় সিএএ বিরোধী আন্দোলন। দিল্লিতে হিংসার বলি হন ৫০-র বেশি মানুষ। অবশেষে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাজেট অধিবেশনে এই আইন লাঘু করার সময়সীমা বৃদ্ধি করার অনুমোদন মেলে সংসদে। সেই লক্ষ্যে যে এগোচ্ছে কেন্দ্র, তা স্পষ্ট মোদী সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতেই। স্বভাবতই এই আইনকে 'অগণতান্ত্রিক' আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (এমএইচএ) বিজ্ঞপ্তিকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাল ভারতীয় মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)।

প্রতিবেশী দেশের অমুসলিমদের 'নাগরিকত্ব' দেওয়ার ডাক
পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে উদ্বাস্তু হয়ে আসা অমুসলিমরা আবেদন করতে পারবেন ভারতের নাগরিক হওয়ার উদ্দেশে, ২৮শে মের গেজেট নোটিফিকেশন মারফত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। গুজরাত, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের মোট ১৩টি জেলার হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ প্রভৃতি ধর্মের বাসিন্দারা আবেদন করতে পারলেও বঞ্চিত হবেন মুসলিমরা। স্বভাবতই ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের বিচারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে পৌঁছাল আইইউএমএল।

৯ রাজ্যের মোট ২৯ জেলার শরণার্থীরা আবেদন করবেন নাগরিকত্বের
আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে শিকড়, অথচ শরণার্থী হিসেবে মোট ১৩টি জেলায় রয়েছেন যেসব অমুসলিম জনগণ, সেই সকল মানুষদের জন্য শুরু হবে নাগরিকত্ব দানের প্রক্রিয়া। কেন্দ্রের শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তির পর থেকে বাড়ল শরণার্থী অধ্যুষিত জেলার সংখ্যা, নয় রাজ্যের মোট ২৯ জেলা এল কেন্দ্রের নজরে। স্বাভাবিকভাবেই ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিভাজনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মুসলিম লীগ। লীগের সুরে সুরে মিলিয়েছেন নেটিজেনরাও।

নব বিজ্ঞপ্তির জেরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য
নব নোটিফিকেশনে স্পষ্ট, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ১৬ নং ধারা ও ২০০৯ সালের আইন ব্যবহার করে এহেন পদক্ষেপ ফেলতে চলেছে কেন্দ্র। সূত্রের মতে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগত 'অমুসলিম' সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের আবেদন করতে হবে অনলাইনে মাধ্যমে। পাশাপাশি জেলার কালেক্টর এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রসচিব খতিয়ে দেখবেন আবেদনগুলি, জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় সূত্রে।

সিএএ লাঘু হওয়ার আগেই ঘুরপথে পদক্ষেপ কেন্দ্রের
২০১৯-র সিএএ অনুসারে, ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান জনগণকে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদানের কথা বলা হয়। যদিও সিএএ সংক্রান্ত নিয়ম সম্পূর্ণভাবে তৈরি না হওয়ার দরুণ আগের আইন অনুযায়ীই জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি, খবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে। এদিকে করোনা আতঙ্কের মাঝে জনগণকে নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়ে বিজেপি সরকারের এহেন পদক্ষেপকে ভালো চোখে দেখছেন না কেউই। সিএএ সরাসরি চালু না করতে পারলেও কেন্দ্র যে 'ঘুরিয়ে নাক দেখাচ্ছে', সে বিষয়ে একমত রাজনীতিকরা।












Click it and Unblock the Notifications