ভারতের শীর্ষ আমলাদের ছল করে পাকিস্তানে আটকে রেখে মুম্বই হামলা চালায় পাক জঙ্গিরা
নয়াদিল্লি, ১১ জুন : ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে হামলা চালায় পাক জঙ্গিরা। এই নিয়ে নানা সময়ে নানা চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এসেছে। এবারও এমন তথ্য সামনে এল যা একেবারে চমকে দেওয়ার মতো।
ঠিক কীভাবে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা চালায় পাক জঙ্গিরা
জেনে নিন ২০০৮ মুম্বই হামলায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ হয়েছিল কোথায়
জানা গিয়েছে, যেদিন মুম্বই হামলা ঘটায় পাক জঙ্গিরা, সেদিন পাকিস্তানে ছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ আমলারা। এই আমলাদের হাতেই ছিল জঙ্গি হামলা হলে তা কীভাবে তাড়াতাড়ি রোধ করতে হয় তার চাবিকাঠি। এরা পাকিস্তানে আটকে থাকার সুযোগ নিয়েই মুম্বই হামলাকে পরিণতি দিতে থাকে জঙ্গিরা।

কিন্তু কেন সেইসময়ে পাকিস্তানে গেলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ আমলারা? আর আটকেই বা রইলেন কেন? এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রাক্তন আধিকারিক আরভিএস মনি।
মুম্বই হামলা : বিস্ফোরক সাক্ষ্য ডেভিড হেডলির
তিনি সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সন্ত্রাস রোধ সহ একাধিক দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার জন্য সেসময়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ আমলারা। তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ২৫ নভেম্বর। সেইমতো ২৪ তারিখ তাঁরা পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
১৯৯৩ থেকে ২০১৫ : মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনাপঞ্জী
এমন বৈঠক দুই দেশের মধ্যে প্রতিবছরই হয়ে থাকে। ২০০৬ সালে তা পাকিস্তানে হয়েছিল। ২০০৭ সালে তা নয়াদিল্লিতে হয়। এরপর ২০০৮ সালে তা পাকিস্তানে হওয়ার কথা ছিল। তবে হঠাৎ বৈঠকের দিন একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ভারতীয় আমলাদের পাকিস্তানে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ২৬ নভেম্বরের রাতে কী হয়েছে তা আমরা সকলেই জানি, এমনটাই জানিয়েছে মনি। তিনি নিজে অবশ্য সেসময়ে পাকিস্তানগামী দলে ছিলেন না।
আরভিএস মনির মতে, ভারতের শীর্ষস্থানীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের আমলাদের নিজের দেশে আটকে রেখে পাকিস্তান ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক সাজিয়েছিল। সরকার জানত কীভাবে জঙ্গিরা হামলা চালাবে। সেইমতো পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
আর এই আধিকারিকরা হামলার সময়ে ভারতে না থাকায় জঙ্গিদের কব্জা করতে প্রায় তিনদিনের বেশি সময় লেগে গিয়েছিল। এমনভাবে গোটা পরিকল্পনা পাকিস্তান করেছিল যাতে সবকিছু তাদের পক্ষে যায়, এমনটাই অভিযোগ এই প্রাক্তন আধিকারিকের।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে মুম্বই হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। ঘটনায় আহত হন ৩০০ জনেরও বেশি। মুম্বইয়ের হোটেল তাজ, নরিম্যান পয়েন্ট, রেল স্টেশন সহ একাধিক জায়গায় জঙ্গি হামলা চালানো হয়।


















Click it and Unblock the Notifications