দেশে অপরিবর্তিত তেলের দাম, ক্ষতির সম্মুখীন একাধিক বেসরকারি জ্বালানি বিক্রয় সংস্থা
দেশে অপরিবর্তিত তেলের দাম, ক্ষতির সম্মুখীন একাধিক বেসরকারি জ্বালানি বিক্রয় সংস্থা
যুদ্ধ লেগেছে রাশিয়া ইউক্রেনে। কিন্তু তার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে গোটা বিশ্বের বাজারে। বিশেষত লাগাতার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্যের। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে সোনা, রূপোর মত মূল্যবান ধাতুরও। কিন্তু এক্ষেত্রে সবথেকে চিন্তার কারণ হল বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া মূল্য বৃদ্ধি। আর এতকিছুর জন্য মূলত ভুগতে হচ্ছে ভারতের একাধিক বেসরকারি পেট্রোল ডিজেল বিক্রেতা কোম্পানিকে। কিন্তু তা কীভাবে?

রেকর্ড উচ্চতায় তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন রেকর্ড উচ্চতায়, এমন সময়ে দেশে পেট্রোল, ডিজেল বিক্রির জন্য তেল সংস্থাগুলি বিশেষত বেসরকারি সংস্থাগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল, অতি সম্প্রতি গত সপ্তাহে যদিও এটি আবার ১১০ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে কিন্তু এটি এখনও ব্যারেল প্রতি বেশকিছু মার্কিন ডলার বেশি। আর যাতে বেসরকারী খাতের কোম্পানিগুলি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

দেশে অপরিবর্তিত তেলের দাম
বিশ্ব বাজারে লাগাতার তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য ভারতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বেসরকারি তেল সংস্থা গুলি। তার অন্যতম প্রধান কারণ কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ১২০ দিনের বেশি পেট্রোল, ডিজেলের দাম বাড়াতে দিচ্ছে না। এবিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেল বিশেষজ্ঞ ডঃ সুধীর বিস্ত জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন বাড়ছে তখনও দেশে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের ভিত্তিতে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে।

দেশে তেল বিক্রিতে ক্ষতি
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) লিমিটেড, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (এইচপিসি) লিমিটেডের মতো তেল কোম্পানিগুলি প্রতি লিটারে 15 টাকা ক্ষতি করছে, যাকে প্রযুক্তিগত পরিভাষায় 'আন্ডার-রিকভারি' বলা হয়। পেট্রোল, ডিজেলের দাম না বাড়ায় নীরবে ক্ষতির মুখে পড়ছে সরকারি সংস্থাগুলি। কিন্তু বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ক্ষোভ বাজারে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, রিলায়েন্স ডিলারদের বলেছে যে তারা তাদের স্বাভাবিক বিক্রয় সরবরাহের মাত্র ৫০ শতাংশ পাবে। কিন্তু যে কোনও কোম্পানি বিশ্বাস করে যে নির্দিষ্ট ব্যারলে ১৫ টাকার কম পুনরুদ্ধার তাদের সংস্থার আর্থিক অবস্থার জন্য মোটেই ভালো নয়। আর জার ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সংস্থাগুলির মধ্যে।

তেলের দামে সরকারী হস্তক্ষেপ
বর্তমানে, রিলায়েন্স পেট্রোলের কোটা বেঁধে দেয়নি কারণ তাদের ডিজেলের তুলনায় পেট্রোলের বিক্রি মাত্র ১৫% বেশি। রিলায়েন্স পেট্রোল এখন জিও-বিপি ব্র্যান্ড নামে চলে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম অর্থাৎ বিপি বিশ্বের একটি সুপরিচিত তেল বিক্রয় কোম্পানি। আন্তর্জাতিক বাজারে এটাও ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে যদিও ভারত ফ্রি-মার্কেট মূল্যের অধীনে পেট্রোল, ডিজেল বিক্রি করে কিন্তু সেক্ষেত্রেও সরকারি তেল কোম্পানিগুলিকে দাম না বাড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই অবস্থায় বেসরকারি কোম্পানিগুলিও তাদের তেলের দাম কমিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে কারণ যদি তারা দাম বাড়িয়ে দেয়, তাহলে কোনও পরিবহনকারী তাদের পাম্প থেকে তেল নেবে না। ভারত সরকারের এই ধরনের বাজারে হস্তক্ষেপ বিপিসিএল-এর বিনিয়োগের সাফল্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।












Click it and Unblock the Notifications