বিজেপিকে সমর্থনে একাধিক 'শর্ত' জেডিইউ-এর! যে সব দাবি বিজেপির সামনে রেখেছে নীতীশের দল
গত বারের থেকে আসন কম পেলেও বড় সুযোগ বিহারের নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর সামনে। কেন্দ্র সরকার গঠনে বিজেপিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের কথা জানালেও তাদের বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। জেডিইউ-এর দাবি, সেইসব শর্তগুলি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনকে যথেষ্টই প্রভাবিত করেছে।
অন্যদিকে জেডিইউ যেসব দাবিগুলি করেছে, যা বিদায়ী সরকার কোনওটি প্রয়োগ করেছে আবার কোনওটি প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া কোনও কোনওটির ক্ষেত্রে সরাসরি তারা সরকারকে সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছে।

- অগ্নিপথ প্রকল্প
জেডিইউ মুখপাত্র এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা ২০২২ সালে বিজেপি সরকারের চালু করা অগ্নিপথ স্কিমের পর্যালোচনা চাইছে। এই স্কিমে সেনাবাহিনীতে নিযোগ করা হয় চার বছরের জন্য। তিনি বলেছেন, জেডিইউ অগ্নিপথ ইস্যুতে বিশদে আলোচনা চায়। কারণ এব্যাপারে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। এই প্রকল্্প নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রাক্তন প্রতিরক্ষা কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে এনডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা আড়া, জেহানাবাদ, কিষাণগঞ্জ ও পাটুলিপুত্রের মতো আসনে হেরে যাওয়া নিয়ে মূল্যায়ন করতে চলেছে। সেখানে অগ্নিপথ স্কিম যুবকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল কিনা, যদি তাই হয়, সেই কারণে এই হার কিনা তাও খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা অগ্নিপথ স্কিমকে নির্বাচনী ইস্যু করে লড়াই করেছে। আর এদিন কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর হুডা জেডিইউ-এর ভাবনাকে উস্কে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জেডিইউ যা বলছে সঠিক। পুরো দেশ এই স্কিমের বিরুদ্ধে।
- জাত শুমারি
জেডিইউ সারা দেশে জাত শুমারির দাবিতে অনড়। ইতিমধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই বিষয়টিকে নির্বাচনী ইস্যু করেছেন। কেসি ত্যাগী বলেছেন তারা সারা দেশে জাত শুমারির আশা করছে। কোনও দলই এই বিষয়কে না বলছে না বলে জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে উত্থাপন করতে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
- বিহারের জন্য বিশেষ মর্যাদা
কেসি ত্যাগী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য তাদের সমর্থন নিঃশর্ত থাকবে, তবে জেডিইউ বিহারের জন্য বিশেষ মর্যাদা আশা করে। তিনি বলেছেন, রাজ্য বিভাজনের পরে বিহার সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিহারে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জেডিইউ নেতা বলেছেন, বিহারকে বিশেষ মর্যাদা না দিলে এর কোনও পরিবর্তন হবে না।
- অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এক দেশ এক নির্বাচন
জেডিইউ মুখপাত্র কেসি ত্যাগী ইউসিসি নিয়ে বিরোধিতা না করলেও সব স্টেক হোল্ডারকে অর্থাৎ সব রাজনৈতিক দল, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তারপরেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এছাড়াও এক দেশ এক নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই বলেই জানিয়েছে জেডিইউ। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এক দেশ এক নির্বাচন বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারের অংশ।












Click it and Unblock the Notifications